ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে বুয়েট ক্যাম্পাসে

আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে এ দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষার্থীদের খুন করা হচ্ছে। এটা কোনোমতেই কাম্য নয়। আমরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানাই।
পরবর্তীতে তাদের এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমার মনে হয় না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির কোনো প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে। বুয়েটেও নিষিদ্ধ করা উচিত।
কবে নিষিদ্ধ করা হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে বসে লিখে দিলে কিংবা বলে দিয়ে হয়ে যাবে না।
তবে এসব বিষয় নিয়ে বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব কথা বলবেন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রকল্যাণ পরিচালক।
অপরদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদও চান ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক।
তিনি বলেন, ‘বাবা-মা শিক্ষার্থীদের আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, কিন্তু আমরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একমত।’
এর আগে সকাল থেকেই ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিসহ সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা শহরেও। সবার দাবি একটাই, বুয়েটছাত্র ফাহাদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার।
এদিকে সকাল ১০টার পর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরার ফাহাদের তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আবরার ফাহাদের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টায় আবরারের দ্বিতীয় জানাজা হয়।
গত রোববার (০৬ অক্টোবর) দিনগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফাহাদের সহপাঠীদের অভিযোগ, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন। ফাহাদের ময়নাতদন্তকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরাও জানান, তার মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। ছিলেন শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার (০৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১জনকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ