ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন দিবস || নির্যাতিত রাবি শিক্ষার্থী রনির চোখে এখনো অন্ধকার

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৭, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


সেনা সমর্থিত সরকারের সময় ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘটিত হয়েছিল ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলন। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে ২১ আগস্ট ক্যাম্পাসে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা আমান উল্লাহ সরকার রনি। পুলিশের হামলায় আহত রনির চোখে এখনো অন্ধকার। তার ডান চোখটি এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২০ আগষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলাকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্যদের হাতে নির্যাতিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে ঢাবিসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও সংঘটিত হয় ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলন। এ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা অগ্রভাগে ছিলেন তাদের অন্যতম আমানুল্লাহ সরকার রনি।
আন্দোলনের সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের পুলিশের নির্যাতনের শিকার হক রনি। মারাত্মকভাবে আঘাত পান তার ডান চোখে। সেসময় আহত অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দেয়া হয় হত্যা মামলা। চার মাস ১৫ দিন জেলে থাকতে হয় রনিকে। ফলে চিকিৎসার অভাবে চোখের ক্ষতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। যে যন্ত্রণা তাকে এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমান উল্লাহ সরকার রনি বলেন, স্বপ্ন পূরণের আশায় যখন সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি তখনই এতবড় একটা আঘাত আসলো। যা এখনো আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমি এখন আমার ডান চোখে প্রায় ৭৫ ভাগ দেখতে পাই না। ডাক্তারদের পরামর্শ উন্নত চিকিৎসা। কিন্তু এমনিতেই মিথ্যা মামলা ও চোখের চিকিৎকার কারণে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এখন আমি অসহায় পড়েছি।
ওই আন্দোলনে গ্রেফতার করা হয়েছিলেন- রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদুর রহমান খান, রাবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক, সাবেক উপউপাচার্য ও ভূতত্ত ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, সেলিম রেজা নিউটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন। ওই আন্দোলনে শিক্ষকদের পাশাপাশি কয়েকজন ছাত্রকে কারাগারে নেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ছিলেন আহত রনি। আহতাবস্থায়  তাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়। যে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আমান উল্লাহ সরকার রনি ২০০৭ সালে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ