‘ছায়ানীড়ের’ জঙ্গি আস্তানায় বোমার ছড়াছড়ি

আপডেট: মার্চ ১৭, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সীতাকুণ্ডের প্রেমতলায় এক জঙ্গি আস্তনায় ১৯ ঘণ্টার অভিযান শেষে ভেতরে নানা রকম বোমা ও বিস্ফোরক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে দুইজন নব্য জেএমবির ‘বোমা বিশেষজ্ঞ’ ছিলেন বলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিসি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘ছায়ানীড়’ নামের দ্বিতল ওই বাড়ির সামনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এ বাড়িতে অপারেশনের আগে আমাদের কাছে তথ্য ছিল, এখানে দুইজন লোক আছে, যারা বোমা বানাতে দক্ষ। সে কারণে পুলিশের সোয়াট টিমের প্রবেশে সময় লেগেছে। তিন চার রকমের শক্তিশালী বোমা পাওয়া গেছে ভেতরে।”
ছানোয়ার জানান, ভবনের প্রবেশ পথে প্রধান ফটকের কাছে একটি বড় বোমা, বাঁ পাশের প্রথম কক্ষে তোষকের ওপর একটি বড় বোমা, ঘরের দরজার ডান দিকে একটি পাইপ বোমা, ১২ সেট জেল এক্সপ্লোসিভ ও একটি ছোট বোমা পাওয়া গেছে।
এছাড়া একটি ব্যাগে পাইপের টুকরো, সুইচ, ব্লাস্টিংস ক্যাপ এবং একটা কার্টনের ভেতরে লিকুইড এক্সপ্লোসিভ পেয়েছেন তাদের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। বিস্ফোরকবোঝাই তিনটি সুইসাইড ভেস্টসহ দশটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছেন তারা।
পাশের আমিরাবাদ এলাকার এক বাড়ি থেকে এক জঙ্গি দম্পতিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যে বুধবার বিকালে প্রেমতলার ছায়ানীড়ে অভিযানে আসে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। কিন্তু বাড়ির ফটকে পৌঁছেই ভেতর থেকে ছোড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক।
এরপর পুলিশ ও সোয়াট সদস্যরা ওই বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেন। ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও বোমা নিস্ক্রীয়কারী দলের সদস্যরা। সারা রাত অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’।
অভিযানের এক পর্যায়ে টানা সাত থেকে আট মিনিট গুলি চলার পাশাপাশি পর পর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর প্রচণ্ড এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি সফিকুল ইসলাম জানান, চূড়ান্ত অভিযান শুরুর পর পাশের একটি ভবনের দোতলা থেকে সোয়াট সদস্যারা ছায়ানীড়ের ছাদে যান। এ সময় ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিতে দিতে বিস্ফোরকের ভেস্ট পড়া দুইজন ছাদে চলে আসে। তারা বিস্ফোরণ ঘটাতে যাচ্ছে দেখে সোয়াট সদস্যরা গুলি করেন। তাতে এক জঙ্গি মাটিতে পড়ে গেলেও অন্যজন বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়।
ওই বিস্ফোরণে দুই জঙ্গির শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে আরও তিনজনের লাশ পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে একটি শিশু ও এক নারী রয়েছেন।
অভিযনের পর ওই বাসায় ছড়িয়ে থাকা বোমা নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা।
ছানোয়ার হোসেন জানান, জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছিল নিচতলার সিঁড়ির লাগোয়া ফ্ল্যাটে। সেখানে অবিস্ফোরিত বেশি কিছু বোমা পেয়েছেন তারা।
“সোয়াট টিম ঢোকার সময় সিঁড়ি দিয়ে ছাদের কাছাকাছি জায়গায় তিন থেকে চারকেজি ওজনের বোমায় বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। বিস্ফোরণে সিড়িঘর ভেঙে পড়ে। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়ে।”
ছাদের বিভিন্ন অংশে পোড়া দাগ দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এসব ব্লাস্টিং ইমপ্যাক্ট বলে ধারণা করছি। সুইসাইডাল এক্সপ্লোশানের এত বড় ঘটনা দেশে আগে কখনো আমরা দেখিনি।”
ওই বাসায় যেসব সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, তা দিয়ে ৪০ থেকে ৫০টি বোমা বানানো সম্ভব বলে ছানোয়ার হোসেনের ভাষ্য।
তিনি বলেন, ওই বাসার দ্বিতীয় কক্ষে আরও বিস্ফোরক থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।- বিডিনিউজ