ছায়াপথে সবচেয়ে সহিংস যুদ্ধের ছবি

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
আমাদের এই পৃথিবী থেকে প্রায় ৭,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে সহস্রাব্দ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৃহদায়তন দুইটি নক্ষত্রের মধ্যে থেমে থেমে ঘটে চলেছে এক রহস্যময় যুদ্ধ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতে এটাকে বলা হয়েছে ‘এটা কারিনি’। যা গ্যাস ও ধূলিকণায় আবৃত দ্বিগুণ নক্ষত্র সিস্টেমের ডাম্বেল আকৃতির একটি নীহারিকা। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা এটির বয়স দুই শতাব্দীর বেশি নয়।
যা হোক, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি অ্যাস্ট্রোনোমি ও অ্যাস্ট্রোফিজিক্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় জানিয়েছে যে, এটা কারিনির সর্বোচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তারা তুলতে সক্ষম হয়েছেন, এর আগে এ পরিমাণ রেজল্যুশনে রেকর্ড করা হয়নি। এই ছবির মাধ্যমে তারা অনুমান করেছেন যে, সেখানে আসলে কী ঘটছে।
এটা কারিনি অন্যতম আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো এর অগ্ন্যুৎপাত এত তীব্র যে, তারার উজ্জ্বলতার সমান উজ্জ্বল হতে পারে এর অগ্ন্যুৎপাত। সর্বশেষ ১৮৭৩ সালে বড় একটি অগ্ন্যুৎপাত হয় এবং প্রায় ১৮ বছর ধরে তা চলে, যা আকাশগঙ্গার প্রতিটি বস্তুর উজ্জ্বলতা বাড়িয়েছে।
এই নাক্ষত্রিক বদমেজাজের কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখনো জানেন না, কিন্তু এটা কারিনি প্রায় ৬.২ মিলিয়ন মাইল গতিতে গ্যাস ও ধূলিকণা উদগীরণ করতে থাকে।
‘এটা কারিনি বি’ সূর্যের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি ভরের এবং লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল। ‘এটা কারিনি এ’ সূর্যের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি ভরের এবং পাঁচ লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল। প্রতি সাড়ে পাঁচ বছর পর তারা একে অপরের কাছাকাছি আসে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এর উভয় নক্ষত্রই প্রবল গ্যাস ও ধূলিকণার বাতাস এবং প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডিগ্রি পর্যন্ত তাপ সৃষ্টি করে।
ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের রেডিও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের জ্যোতির্বিজ্ঞানী গার্ড ওয়েগেল্ট বলেন, ‘উচ্চ রেজ্যুলেশনের নতুন ছবি এটা কারিনি সম্পর্কে আরো উন্নতভাবে বুঝতে সহায়তা করবে।’ রাইজিংবিডি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ