ছিনতাইয়ে সফলতা পেতে মাজারে মানত

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


ছিনতাইকারী দলের এক সদস্য ওষুধ কেনার জন্য গিয়েছিলেন ফার্মেসীতে। এরপর ঢুকে পড়েন আরও তিন সদস্য।

ওষুধ নয়, তাদের দরকার অন্য কিছু।
নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন কাঁচাবাজার এলাকায় এভাবেই ছিনতাই করেছে তারা। ফার্মেসীর মালিক-কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নিয়েছে ট্যাব, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা।

আফ্রিকার ফিল্ম দেখে তারা রপ্ত করেছে ছিনতাইয়ের কৌশল। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এসব তথ্য দেন সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান।

তিনি জানান, নগরে রাত দশটার পর যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে এলে গ্রেফতারকৃতরা প্রাইভেটকার যোগে টহল দেয়। পথচারী ও জরুরি প্রয়োজনে খোলা থাকা বিভিন্ন দোকানে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। কেউ ছিনতাইয়ে বাধা দিলে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

গ্রেফতারকৃতরা সীতাকুণ্ডে যাওয়ার কথা বলে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর দুইটার দিকে নগরের অলংকার মোড় থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে। কৌশলে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় প্রাইভেটকারের চালক ইলিয়াছকে নিয়ে এসে জিম্মি করে।

এরপর ইলিয়াছের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে ফোন করে প্রাইভেটকারটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অল্প সময়ের মধ্যে এত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংয়েজিদ লিংক রোডে রাত আটটার দিকে চালকের বিকাশ নাম্বারের পাসওয়ার্ড জেনে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে নেয়।

উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান বলেন, ছিনতাইয়ে সফলতা পাওয়ার জন্য ফটিকছড়ি বাজারে গিয়ে একটি মাজারে তারা মানত করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বায়েজিদ-অক্সিজেন কাঁচা বাজার এলাকায় ফার্মেসী থেকে ৭০ হাজার টাকা, একটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর মুরাদপুর এলাকা থেকে একজন রিকশা যাত্রীর মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি এই ছিনতাইকারীরা ভোর হয়ে যাওয়ায় ছিনতাইকৃত প্রাইভেটকারটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে পার্কিং করে রাখে।

সেখানে গাড়ি রাখলে কেউ সন্দেহ করবে না, এটা ভেবেই জায়গাটি বেছে নেয় তারা। এরপর পুনরায় তারা ছিনতাই করার জন্য রাত আটটার দিকে মেডিক্যালের সামনে একত্রিত হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাত দশটা থেকে সারা রাত নগরের রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে স্থানে ঘুরে ঘুরে ১০-১২টি স্থানে ছিনতাই করে তারা।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি নেভি-ব্লু রঙের প্রাইভেটকার, কাঠের বটিযুক্ত লোহার দেশে তৈরি ওয়ান শুটার, চার রাউন্ড কার্তুজ, একটি স্টিলের তৈরি টিপ ছোরা, দশটি মোবাইল, একটি ট্যাব ও নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নোয়াখালী সদর থানার নোল্লা বাজারের লাল মিয়া সওদাগর বাড়ির মৃত শফিক উদ্দীনের ছেলে বেলাল হোসেন আসলাম (২৭), সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী খাদেম পাড়ার আমির কোম্পানি বাড়ির মো.সুলতান আহমেদের ছেলে মো.তানভীর ইসলাম রোকন উদ্দীন (২৭), জঙ্গল সলিমপুর লতিফ নগর এলাকার মো.শফি আলম প্রকাশ শামসুল আলমের ছেলে কামাল উদ্দীন প্রকাশ মহিউদ্দীন (২৮) ও রাঙ্গুনিয়ার রানিরহাট বগারবিল এলাকার মো.জামালের ছেলে মো.সোহেল (৩০)।

প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পাঁচলাইশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো.শাহ আলম, পরিদর্শক মো.খাইরুল ইসলাম, বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.আজহারুল ইসলাম, রানা প্রতাপ বণিক, শাহ আলম, উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মো.আব্দুল মালেক ও আল আমিন।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ