ছুটির দিনেও জমেছে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে জমে উঠেছে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা। রাজশাহী কলেজ চত্বরে এ মেলায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় অংশগ্রহকারীরা বলছেন, শুক্রবার ছুটির দিন হলেও উদ্বোধনের দিনের চেয়ে দর্শকের সমাগম ছিলো বেশি। মেলায় রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের উদ্ভাবনীর বিভিন্ন সামগ্রি তৈরি করে নিয়ে আসা হয়েছে। আর সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণকে সচেতন ও সরকারের বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে সাধারণের মাঝে। শুধু তাই নয়, মেলার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সফলতার কথাও তুলে ধরা হচ্ছে।
মেলায় রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে একটি স্টল নেয়া হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী দিয়ে তিনটি প্রজেক্ট তৈরি করেছে। মাইক্রোকন্ট্রোলারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্লুটুথভিত্তিক লোড কন্ট্রোল ব্যবস্থা বিষয়ে শিক্ষক জিনাত আরা ও শিক্ষার্থী তামিমা বলেন, এই ডিভাইসের মধ্যেমে সব সময় হাতের মুঠোয় থাকা যন্ত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একটি বাড়ির সবকিছু কন্ট্রোল করা যাবে। লোড অন-অফ করার জন্য বার বার উঠতে হবে না মানুষকে। অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য এই প্রজেক্ট খুবই উপযোগী। এছাড়া বাড়ির বাইরে থেকেও বাড়ির ভেতরের যেকোন তথ্য পাওয়া যাবে। উদাহরণস্বরূপ, বাড়িতে চোর আসেল মোবাইলে অটো সিগনাল দেবে। এই প্রজেক্টটি অফিস ্আদালত, ব্যাংকের লকার, কল কারখানাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রজেক্ট ডিজিটাল অটো-অটোক্লাইভ মেশিন বিষয়ে শিক্ষার্থী শিউলী আক্তার বলেন, এই প্রজেক্টটি হলো এই মেশিনটির মধ্যে পানি রেখে ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রার উপর ফুঁটিয়ে কোন যন্ত্রপাতি বা মেডিকেল ব্যবহৃত ছোট ছোট ইন্সট্রুমেন্ট (কাঁচি, ছোরা, ব্লেড ইত্যাদি) জীবাণু ধ্বংস করা যায়। প্রেসার লক ডিভাইস, যা হাসপাতালের রোগির অপারেশন কাজে ব্যবহুত ইন্সট্রুমেন্টসমূহকে জীবাণুমুক্তকরণের কাজে ব্যবহার করা যাবে।
প্রজেক্ট ছঁবংঃরড়হ ংবপঁৎরঃু ংুংঃবস ংড়ভঃধিৎব সমন্ধে আরেক শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা ও তার শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই ংড়ভঃধিৎব ব্যবহার করা হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার সম্ভাবনা থাকবে না। প্রশ্নপত্র তৈরি এবং কেন্দ্রে পৌঁছানো প্রক্রিয়া সহজ হবে। পরিশ্রম কম হবে। সময় অপচয় রোধ হবে এবং খরচ কমবে।
মেলায় বেড়াতে আসা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক বলেন, সব কিছু ভালো লাগছে। মেলায় বেশকিছু স্টল রয়েছে। তাছাড়া এখানে এসে অনেক কিছু দেখে ও শুনে শিখতে পারলাম। মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বাংলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মেলায় এসে অনেক নতুন কিছু দেখতে পেলাম। এখানে শেখার মত অনেক কিছু আছে।
মেলায় শুধু বিজ্ঞান ভিত্তিকই নয়, রয়েছে সমাজের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধনের উপায়ের উপরও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা। মেলায় সানফ্লাওয়ার প্রকল্পের সহাযোগিতায় একশন এইড বাংলাদেশ বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবী বহুমূখী মহিলা সমাজ কল্যাণ সমিতি (এসবিএমএসএস) স্টলে যুব নারীদের প্লাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে লিঙ্গ বিষয়ক বৈষম্য দূরীকরণ এবং বাল্যাবিয়ে প্রতিরোধসহ বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ের ওপরে ধারণা দেয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতনে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেয়া হচ্ছে। এসবিএমএসএস এর প্রজেক্ট অফিসার জালাল উদ্দীন বলেন, আমাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আমাদের এই স্টলে নারীর ক্ষমতায়ন ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছি। এতে করে মানুষ বাল্যবিয়ের কুফল সমন্ধে জানতে পারলে তারা আরো সচেতন হবেন।
শুধু তাই নয়, মেলায় স্থান পেয়েছে অটিজম শিশু-কিশোরদের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্রও। ফাউন্ডেশন ফর উইমেন আ্যন্ড চাইল্ড অ্যাসিসট্যান্স সংস্থা (এফডাব্লুসিএ) মেলায় নিয়ে এসেছে অটিজম শিশু-কিশোরদের তৈরি কাপড়ের মিষ্টি কুমড়া, দুপকাঠি, কাপড়ের তৈরি মরিচ, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর, টেবিল ম্যাট ইত্যাদি। এ মেলায় অটিজম শিশুদের তৈরি জিনিসগুলো বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
অটিজম শিশুদের তৈরি জিনিস কিনতে আসা কলেজের শিক্ষার্থী মোসা. কবিতা ও তৃপ্তি ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা অনেক সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি করেছে। তাদের তৈরি জিনিস অনেক প্রশংসনীয়। আর এই মেলার আয়োজনকদের ধন্যবাদ, আমাদের এতো সুন্দর একটা মেলা উপহার দেয়ার জন্য।
অটিজম শিশু এফডাব্লুসিএ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা পাভেল বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের তৈরি নানা জিনিসপত্র আমরা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে নিয়ে আসি এবং বিক্রি করে থাকি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী কলেজ মাঠে তিনদিন ব্যাপি এ ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারী মিলে ৫০টি স্টল স্থান পায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ