ছুটির দিনে জমজমাট মাইডাস এসএমই বাণিজ্য মেলা

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২০, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগর ভবনের গ্রীন প্লাজায় এসএমই মেলায় একটি স্টলে পোশাক পছন্দ করছেন দর্শনার্থী সোনার দেশ

নগরীতে ১৪ জানুয়ারি থেকে নগর ভবনের গ্রিনপ্লাজায় শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপি মাইডাস এসএমই বাণিজ্য মেলা। ঢাকা, রংপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারি, যশোর ও রাজশাহীর ৫০ জন নারী উদোক্তাদের তৈরি নান্দনিক সব পণ্য স্থান পেয়েছে এ মেলায়। বিচিত্র ডিজাইনের অপূর্ব সুন্দরসব পোশাকের সমাহার ঘটেছে মেলায়। আর শেষ সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গনে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। মাইডাস এসএমই বাণিজ্য মেলা চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শেষ সময়ে জমে উঠেছে স্টলগুলো। প্রায় প্রতিটি স্টলেই বিক্রয় কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন তাদের নিজের তৈরি বাহারি পণ্য প্রদর্শনে। তুলে ধরছেন তাদের পণ্যের বৈচিত্রতা ও গুনগত মান। ক্রেতারাও তার রুচি ও পছন্দ মতো কিনছেন বিভিন্ন জিনিস। শেষ সময়ে কিছু স্টল দিচ্ছে বিশেষ ছাড়।
প্রকাশ বুটিকের উদোক্তা নাসিমা খাতুন বলেন, পাঁচদিনব্যাপি আয়োজিত মেলার কালকেই শেষ হবে। আর আজকেও যেহেতু ছুটির দিন তাই ক্রেতা সংখ্যা বেশি। মেলার স্টলগুলোতে নারীদের নিজের হাতের নকশা করা পোশাক, ওয়্যালমেট, ব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো সবগুলোই খুব সুন্দর এবং দামও কম। শেষ সময়ে বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে।
মেলায় ঘুরতে আসা সাইরা খাতুন বলেন, আমি প্রতিবছর এরকম মেলায় আসি। মেলায় যে পোশাকগুলো থাকে তা খুবই সুন্দর। পোশাকগুলো উপরে যে হাতের কাজ করা হয় সেগুলো দেখে যে কেউ আকৃষ্ট হবে। পণ্যের দামও অনেকটাই সাধ্যের মধ্যেই। এমন আয়োজনকে আমরা স্বাগত জানায়।
মাইডাস এসএমই বাণিজ্য মেলায় স্টল রয়েছে প্রায় ৬০টি। পোশাকের পাশাপাশি এ স্টলগুলোতে রয়েছে পাপস, লেডিস ব্যাগ, ওয়ালম্যাট, টেবিল ম্যাট, জায়নামাজ, বাসকেটসহ ঘর সাজানো সৌখিন জিনিস। এছাড়া মেলায় রয়েছে বিউটি পার্লার, শীতকালিন পিঠা ও কসমেটিক স্টল।
প্রশিক্ষিত নারী উদোক্তাদের মার্কেটিং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিএফএলআই প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করেছে মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স অ্যান্ড সার্ভিস- মাইডাস। এ মেলায় নারীদের বিভিন্ন পণ্যে ক্রেতাদের কাক্সিক্ষত সাড়া মিললেও পাটপণ্যে তেমন সাড়া পাচ্ছেনা উদোক্তারা। এ নিয়ে হতাশার কথাও শোনালেন পাট বাজার স্টল এর উদোক্তা উম্মেহাজ সিদ্দিকা।
তিনি বলেন, পাটপণ্য নিয়ে আমাদের বেচাবিক্রি আশানুরূপ না। মেলা থেকে আমরা তেমন সেল করতে পারছিনা। তবে এরকম মেলায় অংশগ্রহণ করলে কিছু অর্ডার পাওয়া যায়।
পাটপণ্যের আরেক উদ্যোক্তা মনছুরা জুট হ্যান্ডিক্র্যাপ্টের মনছুরা বেগম বলেন, মেলায় আসলে পাটপণ্য নিয়ে আমরা ক্রেতাদের খুব একটা সাড়া পাইনা। আমরা রংপুর থেকে মেলার জন্যে রাজশাহীতে এসেছি। মেলায় অন্যান্য স্টলে ভিড় মোটামুটি ভালোই আছে। কিন্তু আমাদের পাটপণ্যের স্টলগুলোতে তেমন ভিড় নেই। বেচাবিক্রিও কম। তবে এসব মেলায় আসলে অনেকের সাথে যোগাযোগ হয়। তখন দুএকটা অর্ডার পাই।
পাটপণ্য নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করছেন নতুন প্রজন্মের কিছু ক্রেতা। তারা বলছেন, পাটপণ্যের আরো মানোন্নয়ন করা প্রয়োজন। মেলায় ঘুরতে আসা তরুণি জুনাইরা বলেন, মেলায় খুব সুন্দর সুন্দর পোশাকের সমাহার রয়েছে। তবে দেশীয় পণ্য হওয়ায় এসব পোশাক ইয়ুথ অনেককেই আকৃষ্ট করতে পারে না। আর এর মধ্যে পাটের অবস্থা আরো খারাপ। পাটপণ্য জনপ্রিয় করতে পণ্যের মানোন্নয়ন করা প্রয়োজন।
মাইডাসের এজিএম ইব্রাহিম হোসেন বলেন, দেশের কয়েকটি জেলার নারীদের ট্রেনিং দেয়ার পর রাজশাহীতে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের এ মেলা রাজশাহী ছাড়াও আরো তিনটি জেলায় করা হবে। আমাদের এখানে ৫০ জন উদ্যোক্তার মধ্যে ২৫ জনকে পাঁচ দিনের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে । এবং পাটপণ্য উৎপাদনের জন্যে ২৫ জনকে ১২ দিনের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। এরপর তাদের পণ্য বিক্রি বাড়াতে এবং উদ্যোক্তাদের মার্কেটিং দক্ষতা উন্নয়নের জন্যে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আর পাটপণ্যের মানোন্নয়নের জন্যে আমাদের ট্রেনিঙের ব্যবস্থা আছে। রাজশাহীতে এরকম মেলার আয়োজন আরো দুইবার হয়েছে। আমাদের পাঁচ দিনের মেলায় প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। সব মিলিয়ে সুন্দর পরিবেশে আমাদের মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।