‘ছেলে আর আমার বুকে ফিরতে পারলো না’

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২২, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


আমার ছেলে শরিফ কই, আপনারা আমার ছেলেরে এনে দেন। শরিফ আমার বড় ছেলে, তাকে ছাড়া আমার দিন কেমনে কাটবে? শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ হারানো সেনা সদস্য ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন বাবা লেবু তালুকদার। তবে বাবার আহাজারি শোনা গেলেও অধিক শোকে যেন পাথর হয়ে গেছেন মা পানজু আরা বেগম এবং স্ত্রী সালমা খাতুন। তাদের চোখে পানি থাকলেও মুখে কোনও শব্দ নেই। মাঝে মধ্যে দীর্ঘশ্বাসে প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কথা জানান দিয়েছেন।

বুধবার (৫ অক্টোবর) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বেড়া খারুয়া গ্রামে শরিফ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। শরিফ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। শরিফের মৃত্যুর খবর শুনে স্বজনদের সান্ত¡না দিতে ছুটে এসেছেন গ্রামবাসী। তাদের চোখ দিয়েও ঝরেছে পানি।

জেলার বেলকুচি উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়া খারুয়া গ্রামের লেবু তালুকদারে দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে শরিফ হোসেন বড়। ২০১৮ সালে সেবাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। আর এক বছর আগে যান শান্তিরক্ষা মিশনে।

ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফের মা পানজু আরা বেগম বলেন, ছেলে কয়েকদিন আগেও আমাকে ফোনে বলেছিল তারা এক ভয়ঙ্কর জায়গায় আছে। সে বলেছিল মাগো মিশনে আর ভালো লাগছে না, দ্রুতই দেশে ফিরবো। আমার ছেলে আর আমার বুকে ফিরতে পারলো না, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

শরিফের ছোটভাই কাউছার হোসেন বলেন, ১৫ দিন আগেও আমার ভাই ফোন দিয়ে বলেছিল আর দুই মাস পর দেশে আসবে। দেশে এসে বাড়ি-ঘরের কাজ করাবে। ছোটবোনকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দেবে। আমার ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না। এখন আমার ভাই নেই, আমাদের সংসার চলবে কী করে। আমার ভাই দেশের জন্য মিশনে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে এখন আমাদের একটাই দাবি, আমাদের সংসার চালানো জন্য যেন একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। তা না হলে আমাদের না খেয়ে দিন পার করতে হবে।

চাচা শান্ত সরকার বলেন, চার বছর আগে বিয়ে করেন শরিফ। তাদের এখনও বাচ্চা হয়নি। শরিফের এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আজ ( বুধবার) সকালে বগুড়া থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা শরিফের বাড়িতে এসে তার বাবার হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। কিন্তু শরিফের টাকায় চলা সংসারের এখন যে কি হাল হবে, আল্লাহই ভালো জানেন। শরিফের ছোটভাইটাকে সরকার থেকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে পরিবারটা বেঁচে যাবে।

এদিকে শরিফের স্ত্রী সালমা খাতুন স্বামী হারিয়ে শোকে যেন পাথর হয়ে গেছেন। স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমি এখন কোথায় যাবো, কার কাছে যাবো?’

এরআগে, সোমবার (৩ অক্টোবর) সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৪ অক্টোবর রাত ১টা ৩৫ মিনিট) বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়িতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর- আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- বিস্ফোরণে বাংলাদেশি তিন সেনা সদস্য প্রাণ হারান। তাদের একজন সিরাজগঞ্জের শরিফ হোসেন। এছাড়া বিস্ফোরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জসিম উদ্দিন (৩১) ও নীলফামারীর জাহাংগীর আলম (২৬) প্রাণ হারিয়েছেন।- বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ