জঙ্গিবাদে নারী আত্মঘাতী ।। জঙ্গিরা নতুন রূপে সংগঠিত হচ্ছে?

আপডেট: ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর আশকোনায় শনিবারের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নারীদের চরমপন্থায় সম্পৃক্ত হওয়ার উদাহরণ এবং আত্মঘাতী বেল্টের ব্যবহার প্রধান দুটি উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকারা। শুধু তা-ই নয়- শিশুদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে আশকোনার অভিযানে। জঙ্গি আস্তানার যে ঘরে জঙ্গি নেতা তানভীর কাদেরীর কিশোর ছেলের লাশ পড়ে আছে, সেখানে পাঁচটি গ্রেনেড ও বিস্ফোরকের বেল্ট পাওয়ার পর তা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পূর্ব আশকোনায় হজ ক্যাম্পের কাছে সূর্যভিলা নামের একটি তিন তলা বাড়িতে শনিবার প্রথম প্রহর থেকে বিকাল পর্যন্ত অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর নাম তারা দিয়েছে ‘অপারেশন রিপল ২৪’।
অভিযানের মধ্যে জঙ্গিনেতা জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার শীলা ও তার মেয়ে এবং জঙ্গিনেতা মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও তার মেয়ের আত্মসমর্পণের কথা জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। আরেক জঙ্গি নেতা সুমনের স্ত্রী ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে কোমরে বাঁধা গ্রেনেডে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হন। বিস্ফোরণে আহত হয় ইকবালের চার বছর বয়সী মেয়ে। পরে কাদেরীর ১৪ বছর বয়সী ছেলেও নিজের বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পুলিশ বলেছে ওরা প্রকাশ্য কোনো রাজনৈতিক দল না। এদের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই। তাই গোপনভাবে কে কোন রোল পালন করছে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না। তবে তদন্ত ছাড়াই আশকোনায় নিহত ও আত্মসমর্পণকারীদের কোনো রাজনৈতিক সাংগঠনিক অবকাঠামো নেই তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। সাংগঠনিক ভিত্তি আছেই বলেই তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রই শুধু ছিল না সেগুলোর প্রয়োগও তারা ঘটিয়েছেÑ অর্থাৎ প্রশিক্ষণ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। এ ছাড়াও ওইসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চয় সরবরাহ করা হয়েছে। এটিও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই হওয়ায় স্বাভাবিক।
এর আগেও নারী জঙ্গির অস্তিত্ব সম্পর্কে দেশের মানুষের ধারণা আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম আত্মঘাতী হামলা একজন নারী সংঘটিত করেছে। বিষয়টি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার, আবার বিবেচনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণও। আবার মানুষের সন্দেহপ্রবণতাকে পাস কাটাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলার ঘটনাও সামনে এসেছে। জঙ্গি তৎপরতার নতুন এই ডাইমেনশন বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পরিকল্পনা ও কৌশলের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেই আপাত মনে হয়। দুই জঙ্গি নারীকে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড নিয়েছেÑ নিশ্চয় জিজ্ঞাসাবাদে  অধিক তথ্য পাওয়া যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে জঙ্গিরা যে নিজেদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে আশকোনার ঘটনা সেই সাক্ষ্যই দেয়।
এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব সেই দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে জঙ্গি অভিযানে পুলিশের এই সাফল্য দেশবাসীকে উদ্বেগের পাশাপাশি স্বস্তিরও জায়গা করে দিয়েছে। চলতি বছরের পুরোটাই জঙ্গি দমনে পুলিশের প্রশংসনীয় সাফল্য ছিল। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা জঙ্গি নির্মূলে অব্যাহত থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ