জঙ্গিরা গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে দমনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের সাফল্য বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু দেশে জঙ্গি তৎপরতা থেমে নেই। গোপনে, নানা কৌশল অবলম্বন করে, প্রযুক্তির কৌশলি ব্যবহার করে জঙ্গিরা সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এটাকে জঙ্গি দমনের নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি বলা যায়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় তৎপরতার ফলে জঙ্গিরা সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াতে পারছে না। তবে তারা থেমেও নেই। সুযোগ পেলেই তারা নাশকতামূলক কাযক্রম চালাবেÑ এ আশংকা দেশবাসীর সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও।
আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাঝেমধ্যেই জঙ্গিরা ধরা পড়ছে, তাদের কৌশল সম্পর্কেও জানা যাচ্ছে। ১৫ নভেম্বর দিনগত রাতে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আনসার-আল ইসলামের ছয় সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই, মোবাইল, ল্যাপটপ ও জঙ্গিবাদী ট্রেনিংসহ বিভিন্ন কনটেন্ট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ওই জঙ্গিরা বিভিন্ন গোপন অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে থাকেন। বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া সাধারণত তারা কখনো একসঙ্গে জড়ো হয় না। নিজেদের মধ্যে পরিচিত না হয়েই তারা ‘কাটআউট’ পদ্ধতিতে চলাচল করে সংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রতি কোনো একটি ‘লোন উলফ’ হামলার পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর উত্তরা এলাকায় আনসার-আল ইসলামের কয়েকজন একসঙ্গে মিলিত হয়। তবে বাস্তবায়নের আগেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেন র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যরা।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল ইসলাম মূলত মাধ্যমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এই সংগঠন বৃহত্তর জঙ্গি সংগঠনের একটি উইং হতে পারে। এরা শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করে দলে ভেড়ায়। এই সংগঠনের নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকেও তারা জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে আনসার-আল ইসলাম বর্তমানে মূলত দুই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রথমত মোটিভেশনাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্য বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দ্বিতীয়ত, তারা মনে করে সবাইকে হত্যা করে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তবে যারা সরাসরি ইসলামী রাজনীতির বিরোধিতা করে, যারা নাস্তিক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় সংগঠনের সদস্যরা।
জঙ্গিরা প্রযুক্তির উন্নত ব্যবহার এবং সাংগঠনিক তৎপরতায় ঘনঘন কৌশল পরিবর্তন করে থাকে। এই বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরত্বের দাবি রাখে। এই কৌশল পরিবর্তনের বিষয়গুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তখনই জানতে পারছে- যখন জঙ্গিরা ধরা পড়ছে। আবার এই তথ্যও দেশের সর্বত্র সব মানুষের কাছে পৌছাচ্ছে না। জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে এই দুই ঘাটতি পূরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গিদমনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা এবং তাদের সচেতনতা ও করণীয় বিষয়টি আরো বেশি কার্যকর হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ