জঙ্গি অর্থায়নে এনজিও || এদের ব্যাপারে আরো বেশি সতর্ক পদক্ষেপ চাই

আপডেট: আগস্ট ১, ২০১৭, ১২:৪২ অপরাহ্ণ

সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে, সৌদিসহ অন্যান্য উপসাগরীয় আরব দেশের এনজিওগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থ দিচ্ছেÑ এ দাবি বলে দাবি গোয়েন্দাদের। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট অর্থ তদারকি বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্স ইন্টিলিজেন্স ইউনিট সাংবাদিকদের এ কথা জানান। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মর্নিং স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বিশেষ প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়টি উন্মোচিত হয়।
২১ জুন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে গোয়েন্দারা ১৭টি এনজিওকে সনাক্ত করে। সংস্থাগুলো সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অর্থায়নের পরিচালিত হয়। শিল্পমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মর্নিং স্টার বলেছে, ওই এনজিওগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কয়েকটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। বাংলাদশে ফিন্যান্স ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ২১ জুনের বৈঠকে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন সহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তবে এর মধ্যে জঙ্গিবাদে অর্থায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ সংস্থাই জামাতে-ইসলামীর নিয়ন্ত্রিত। সন্দেহভাজন এনজিওগুলো হলো, বাংলাদেশ কৃষি কল্যাণ সমিতি, মুসলিম এইড বাংলাদেশ, রাবেতা আল-আলম আলস্লামি, কাতার চ্যারিটেবল সোসাইটি, ইসলামিক রিলিফ এজেন্সি, আল-ফুরকান ফাউন্ডেশন, কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ সংস্থা, হায়তুল ইগাছা, রিভাইভাল অফ ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি, তাওহীদি নুর ও আলমুনতাদা আল ইসলামি।
দেশি ও বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অনেক দিন ধরেই আলোচনায় আছে। বাংলাদেশে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে একটা নোংরা রাজনীতির খেলা এখনো বজায় আছে তা বলাই বাহুল্য। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে মর্যাদাহীন করার ক্ষেত্রে শুধু যে রোহিঙ্গাদেরই ব্যবহার করা হয়েছে তা নয়Ñ বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠির লোকদেরও ব্যবহার করা হয়েছে বা হচ্ছেÑ এমন অভিযোগও আছে। সাহায্য- সহযোগিতার নামে কতিপয় উন্নয়ন সংস্থা বিদেশি অর্থ মদদে সাম্প্রদায়িকতাতে উস্কে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে। সরকারকেও পার্বত্য এলাকায় কাজ করার ক্ষেত্রে দুএকটি এনজিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়েছে।
সামনে চারটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পরই ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচন। উভয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কতিপয় এনজিও যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে না তা বলার কোনো সুযোগ নেই।  অনেক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ঘাপটি মেরে আছেÑ তারা সময় বুঝে কোপটা বসিয়ে দিবে তাতে সন্দেহ নেই। সাম্প্রদায়িক শক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী দলকে ক্ষমতায় বসাতে তারা যথেষ্ট বিনেয়োগ করতে পারে। এই আশংকাকেকে সামনে রেখে বিভিন্ন এনজিও, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমনকী অর্থশালী ব্যক্তির ওপরও নজরদারি বাড়াতে হবেÑ যাতে করে তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিঙের সুযোগ না পায়। সময়টা এখনইÑ ওইসব বিবরবাসীদের অবস্থান সনাক্ত করার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ