‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান শেষ, বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মিরপুরের মাজার রোডের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দীর্ঘ অভিযান শেষ করেছে র‌্যাব।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান শুক্রবার বিকাল ৪টায় দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ি এলাকার ওই বাড়ির সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে এসে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, “আমরা সেখান থেকে ১৭টি বড় আকৃতির বোমা, ৫০টি ছোট আকৃতির বোমা, ৩০টি গ্রেনেড, ১০০টি দেশীয় অস্ত্র, ১০ কেজি গান পাউডার, তিন কেজি সালফার, ১৫ কেজি স্পিলিন্টারসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি।”
আগের দিন যে ২৩টি ফ্রিজ ওই বাড়িতে পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলো খুলে কিছু পাওয়া না গেলও দুটি ফ্রিজের সঙ্গে ইম্প্রোভাইজড বোমার সংযোগ ছিল বলে জানান মুফতি মাহমুদ।
ছয়তলা ওই ভবনের প্রতিটি তলায় চারটি করে ইউনিট। তার মধ্যে পঞ্চম তলার দুটি ইউনিটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আবদুল্লাহ পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ষষ্ঠ তলার অর্ধেক অংশে তিনি কবুতর পুষতেন। বাকি খোলা জায়গাও কবুতর রাখতে ব্যবহার করা হত।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন মধ্যরাতে মিরপুরের ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।
পরদিন সকালে ভবনটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয় পাশের একটি স্কুলে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় জেএমবির জঙ্গি আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই কর্মচারী আছেন।
মঙ্গলবার সারাদিন র‌্যাবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা চলে। সন্ধ্যায় জানানো হয়, আবদুল্লাহ আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই ভবনে বিকট শব্দে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে।
বুধবার সকাল থেকে সারা দিন তল্লাশি চালিয়ে বিকালে পঞ্চম তলার ওই বাসা থেকে সাতজনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ