জঙ্গি পরিবারে আত্মঘাতী প্রবণতা || অর্থ ও অস্ত্রের উৎস জানা জরুরি

আপডেট: মে ১৪, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

জঙ্গিরা ঘন ঘন তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। একটা নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে বাংলাদেশে জ্িঙ্গ তৎপরতাকে পর্যালোচনা করা যায় না। প্রথম দিকে এ ধারণা খুবই জোরালো ছিল যে, মাদ্রাসার দরিদ্র ছেলেদের ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে ভেড়াচ্ছে। এটাকে যে সর্বৈব সত্য নয় তা দেশবাসী জানলো যখন বিশ্ববিদ্যলয়ের ধনি পরিবারের সন্তানরা জঙ্গিপনায় জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে পুরো পরিবার জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত হচ্ছে। এসব পরিবারও দরিদ্র কিংবা নি¤œবিত্তের। এবং তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মঘাতী হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি-বিরোধী অভিযান চালানোর সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ২৩জন নিহত হয়েছে। যদিও নিহতদের সবাই জঙ্গি নয়। সেখানে তাদের পরিবারের শিশু এবং অন্য সদস্যরাও আছে। ঢাকায় বিমান বন্দরের সামনে, র‌্যাব অফিসের কম্পাউন্ডে, সীতাকু-, সিলেট এবং মৌলভীবাজার, ঝিনাইদহ, শিবগঞ্জ এবং সর্বশেষ রাজশাহীর গোদাগাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলো। তবে জঙ্গিরা কেন আত্মঘাতী হচ্ছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সাধারণত বলা হয়ে থাকে যে, প্রথমত ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে জঙ্গিরা উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তারা মনে করছে যে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আত্মঘাতী হলে তারা ‘বেহেশতে’ যেতে পারবে। দ্বিতীয়ত অনেকেই মনে করে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য বের হয়ে যেতে পারে। সে ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যও কেউ-কেউ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। তবে আত্মহত্যার প্রবণতা যে, দেশের মানুষের কাছে নতুন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে তা বলাই বাহুল্য। এটি সমাজ- প্রগতির জন্য খুবই ভয়ঙ্কর। যে বা যারা এই আত্মঘাতী হচ্ছে তারা যে, মানসিকভাবে অসুস্থ, ধর্মের অপব্যাখ্যায় মোহগ্রস্তÑ তার প্রতিকার সমাজ বা রাষ্ট্র এখনো দিতে পারছে না। এ ধরনের আত্মঘাতী প্রবণতা যে, আত্মহত্যার শামিল তা সৌদি আরব মক্কার প্রধান মুফতি বার বার বলেছেন। আর আত্মহত্যাকারী কখনই বেহশত লাভ করতে পারে না। কিন্তু এই প্রচরণার কতটুকু দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানো গেছে? দেশে তিন লক্ষাধিক মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদকেও যথার্থভাবে উগ্র জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় নি। এবং যারা ইমাম রয়েছেন তাদেরও স্বউদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। সমাজের সর্বনাশা সমস্যাকে ইমামরা কেন নিজের সমস্যা মনে করছেন সেটিও ভেবে দেখা দরকার।
সাধারণ মানুষকে বিপথে চালিত করতে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা বড় অনুসঙ্গ হিসেব জঙ্গিগোষ্ঠি কাজে লাগাচ্ছে। অবশ্যই ধর্মের অপব্যাখ্যা একটি অন্যতম অনুসঙ্গ বটে তবে এটিই একমাত্র নয়। কেননা আমাদের মনে রাখতে হবে- শুধু ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েই আত্মঘাতী পর্যায়ে নেয়া সম্ভব নয়Ñ এর সাথে অর্থের একটা বড় যোগ আছে। ধর্মের অপব্যাখ্যার সাথে সাথে দরিদ্র পরিবারে অর্থ বিনিয়োগ কিংবা সেই পরিবারে বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করেও পরিবার সমেত জঙ্গিপনায় জড়াচ্ছে। পুরো ব্যাপারটি একটি সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতেই চলছে বলে মনে হয়। এর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। এই অর্থের উৎস কীÑ তা এখনো আমরা জানি না। জঙ্গিদের মেরুদ- ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও ব্যাপারটি মোটেও তেমন নয়। পরিস্থিতির কারণে জঙ্গিরা ভোল পাল্টাচ্ছে মাত্র। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহতই আছে। অর্থ এবং অস্ত্র তারা যে পেয়ে যাচ্ছে এটাই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থের যোগান অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যেমন- তেমনি বিদেশি উৎস থেকে হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্থ কীভাবে কোন্ পদ্ধতিতে জঙ্গি তৎপরতায় বিনিয়োগ হচ্ছে এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ কীভাবে হাতের নাগালে চলে আসছে এসব সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ