জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা জব্দ

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০১৭, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আইনশৃঙ্খলাবাগিনির সদস্য পরিবেষ্টিত জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার আবির মাহমুদ-সোনার দেশ

নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় বুধবার দিবাগত গভীর রাতে প্রায় ১২ লাখ টাকাসহ জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতারকৃত আবির মাহমুদকে ১৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতে খায়ের আলম।
আবির মাহমুদের বাড়ি চুৃয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা হায়াতপাড়ায়। তার বাবার নাম আফজালুর রশিদ। আবির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। ইফতে খায়ের আলম বলেন, থানা হেফাজতে আবির মাহমুদকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় নি। তবে তার কাছ থেকে জব্দকৃত ল্যাপটপটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এ কারণে আবির মাহমুদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে গভীর রাতে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালানোর সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপকমিশনার একেএম নাহিদুল ইসলাম। গ্রেফতারের পর বুধবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তাকে বাড়িটি থেকে বের করে আনা হয়।
এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোনো বাঁধা ছাড়াই পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভবনের সামনের সড়কে একটি অ্যাম্বুলেন্সও এনে রাখা হয়। তবে সেখানে কোনো গোলাগুলি বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করার পর সব ফ্ল্যাটের বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। এরপর ভবনটির সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সন্দেহভাজন ওই জঙ্গিকে আটক করা হয়। ওই ফ্ল্যাট থেকে ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রাখার পর সেখানে গণমাধ্যমকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। ওই ভবনটির পাশের আরেকটি ভবনেই থাকেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন। তিনিও ভবনটির সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন।
এরপর রাত পৌনে ২টার দিকে আটক ব্যক্তিকে ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে বের করে আনে পুলিশ। কিন্তু বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ ও গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে পুলিশ তাকে আবার ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর প্রধান ফটকের সামনে একটি মাইক্রোবাস দাঁড় করিয়ে রেখে আটক ব্যক্তিকে ভবনের গ্যারেজ দিয়ে কালো রঙের একটি প্রাইভেট কারে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রাইভেটকারটি আটক ব্যক্তির বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আটক ব্যক্তিকে ভবনের সামনে আনার সময় দেখা যায়, ওই ব্যক্তি সাদা রঙের একটি পাঞ্জাবি পরে আছেন। তার মুখে ছোট ছোট দাড়ি ছিল। তাকে নিয়ে যাওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপকমিশনার একেএম নাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জঙ্গি সন্দেহে ওই বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। এরপর জঙ্গি সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওই ব্যক্তির ফ্ল্যাট থেকে ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। তবে জঙ্গিদের আস্তানায় যে ধরনের আলামত পাওয়া যায়, তা সেখানে পাওয়া যায়নি।
বাড়িওয়ালা অহিদুল ইসলাম বাচ্চুর বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় চার মাস আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তিনি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন। বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় তিনি তথ্য ফরমও পূরণ করেননি। ফ্ল্যাটে তিনি স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে থাকতেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ