জনরোষে সভাস্থল ত্যাগ করলেন সাংসদ এনামুল || তাহেরপুরে আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত চার

আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় সাংসদ এনামুল হকের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে জনরোষে সভাস্থল ত্যাগ করেন সাংসদ এনামুল হক। এসময় তাহেরপুর হরিতলা মোড় এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বাগমারা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি রাজশাহী-৪ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব রয়েছে। পৌরসভার নানা উন্নয়নমূলক কাজে বিরোধিতার কারণে মেয়র কালামের সঙ্গে সাংসদ এনামুলের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ তাহেরপুর পৌর এলাকায় প্রবেশ করেন নি। এরই মাঝে গুঞ্জন ওঠে সাংসদ এনামুল মেয়র কালামের ভয়ে তাহেরপুরে প্রবেশ করেন না। এর প্রেক্ষিতেই মুলত গতকাল শনিবার সকালে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক নিজের অনুসারীদের নিয়ে তাহেরপুরে প্রবেশ করেন।
এদিকে সাংসদের প্রবেশ ঠেকাতে তাহেরপুর পৌরসভা ও গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সরকারের নেতৃত্বে  সকাল থেকেই তাহেরপুরে লোক জমায়েত আরম্ভ হয়। সংঘর্ষের আশঙ্কায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার প্রতিবাদে গত শুক্রবার তাহেরপুর হরিতলা মোড়ে মেয়র কালামের উদ্যোগে একটি সমাবেশের মাধ্যমে সাংসদ এনামুল হককে তাহেরপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এসব কিছুরই প্রতিবাদে এবং তাহেরপুরে সাংসদের সরব উপস্থিতি প্রদর্শন করতে গেলে মেয়র কালামের অনুসারীদের রোষানলে পড়েন সাংসদ এনামুল হক। সকাল থেকেই তাহেরপুর পৌরসভায় সাংসদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা সাংসদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে লাঠিচার্জে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এসময় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, জনমনে দেখা দেয় আতঙ্ক। বেলা ১১টায় সাংসদ তাহেরপুর হরিতলায় এসে পুলিশ বেষ্টনির মাধ্যমে প্রতিবাদ সভা শুরু করেন। এসময় সাংসদের বিরুদ্ধে কালাম সমর্থকদের প্রতিবাদ মিছিল সভাস্থলে আসার চেষ্টা চালায়। মিছিলগুলো পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাহেরপুর পুরো এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যে জনশূন্য হয়ে পড়ে এলাকাটি। এসময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিবাদ সভা সংক্ষিপ্ত করার জন্য অনুরোধ জানায়। এরপর সাংসদ সভাস্থল হরিতলা মোড় এলাকা ত্যাগ করেন।
প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালীন গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হরিতলা মোড়ে বাধাগ্রস্ত হয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এখবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আলমগীরকে উদ্ধারের জন্য তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। পরে পুলিশি বাধার মুখে মিছিলটি তাহেরপুর স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় অবস্থায় নেয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে আলমগীর হোসেন উদ্ধার হয়। এসময় আলমগীর হোসেনের ডান হাতের আঙ্গুল ভেঙে যায়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে জাহেদুল, কোরবান, মাসুদসহ অন্তত চারজন আহত হয়। বেলা ১টা পর্যন্ত তাহেরপুর পৌর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দিনভর তাহেরপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান দেয়। পরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ ব্যাপারে তাহেরপুর পৌর মেয়র ও তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাহেরপুর পৌরসভার নানা উন্নয়ন কাজে সাংসদ ডিও লেটার দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে পৌরবাসীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। সাংসদ এনামুল হক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাহেরপুরে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু জনরোষে পড়ে তার সে সমাবেশ সফল হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম হোসেন জানান, কড়া পুলিশ প্রহরায় সাংসদ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।