জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে সকল নাগরিকের স্বউদ্যোগি ভূমিকা চাই

আপডেট: জুন ১৭, ২০২২, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক দফা পেছানোর পর ১৫ জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হয়েছে কাক্সিক্ষত ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’। সপ্তাহব্যাপি এ শুমারি চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এটি দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর মাধ্যমে দেশের সব সাধারণ খানা, প্রাতিষ্ঠানিক খানা ও বস্তি খানা, ভাসমান/ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, খানার বাসগৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসগৃহের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেট সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস, অর্থনৈতিক কর্মকা-, বৈদেশিক রেমিট্যান্স ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া গণনাকারীরা খানায় বসবাসরত সদস্যদের জনতাত্ত্বিক ও আর্থ-সামাজিক তথ্য যেমন- বয়স, লিঙ্গ, খানাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধীতা, শিক্ষা, কর্ম, প্রশিক্ষণ, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জাতীয়তা, নিজ জেলা ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনা পরিচালনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১১ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১০ বছর পর্যায়বৃত্তি অনুসরণপূর্বক ষষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক দেশব্যাপী পরিচালিত হবে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর জন্য একটি ওয়েবভিত্তিক Integrated Census Management System (ICMS) প্রস্তুতসহ Geographical Information System (GIS) পদ্ধতি ব্যবহারপূর্বক গণনা এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের কন্ট্রোল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। জনশুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে শুমারি কর্মী হিসেবে সারাদেশে প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার গণনাকারী, ৬৪ হাজার সুপারভাইজার ও বিবিএস এর ৪ হাজার ৫০০ এর অধিক কর্মচারী এ প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন। এছাড়াও, বিবিএস বহির্ভূত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রায় ৯শো কর্মচারী জোনাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের প্রতিটি খানা ও খানার সদস্যদের গণনা করে মোট জনসংখ্যার হিসাব নিরূপণ, দেশের সব বসতঘর/বাসগৃহের সংখ্যা নিরূপণ, দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের নিমিত্তে তথ্য সরবরাহ এবং জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য সরবরাহ সম্ভব হবে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২- এর গুরুত্ব বিবেচনায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সঠিক, যথাযথ ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। এ ব্যাপারে প্রতিটি নাগরিককে স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু গণনা কাজে নিয়োজিতদেরই দায়িত্ব নয়- সক্ষম প্রতিটি নাগরিকরিকেরই উচিৎ নিজ এবং পরিবারের তথ্য সরবরাহে উদ্যোগি হওয়া। সকলে মিলে দায়িত্ব পালন করা গেলে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ সফল ও সার্থক হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই সফলতাই হবে দেশের উন্নয়নে মূল চাবিকাটি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ