জনসমুদ্রে মিশে যাচ্ছে নতুন জাতের মানুষ

আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মার্কিন চিকিৎসক এবং এলিয়েন বিশেষজ্ঞ মেরি রডওয়েল সম্প্রতি জানিয়েছেন মানুষের গঠনে দীর্ঘদিন পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক বছর ধরেই গোপনে নতুন প্রজাতির মানুষ জন্ম নিচ্ছে। আমাদের অজান্তেই তারা বড় হয়ে উঠছে এবং সমাজে মিশে যাচ্ছে। সম্প্রতি এ সম্পর্কিত আলাপচারিতায় তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন।
মেরি রডওয়েল নিজে একজন (ৎবমৎবংংরড়হ ঃযবৎধঢ়রংঃ) থেরাপিস্ট। চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেকেই তার স্মরণাপন্ন হন। যারা কথিত এলিয়েন দ্বারা অপহৃত হন তাদের চিকিৎসায় বিশেষ ক্ষমতা কাজে লাগান তিনি। আর একারণেই তিনি বুঝতে পেরেছেন পৃথিবীর জনসমুদ্রে মিশে যাচ্ছে নতুন জাতের উন্নত মানুষ।
আলাপচারিতায় তিনি জানান, কেউ স্বীকার না করলেও এমন বেশ কিছু মানুষের দেখা তিনি পেয়েছেন। যাদের বয়স ৮ বছরের নীচে। এদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্চর্যও হয়েছেন। রডওয়েল জানিয়েছেন, এরা এতোটাই বুদ্ধিমান যে সাধারণ শিশুদের সঙ্গে এদের সহজেই আলাদা করা যায়। তিনি আরও জানান, অনেকে এসব শিশুদের বুদ্ধিমত্তাকে কাকতালীয় বললেও আসলে তা নয়! এরাই হল নতুন জাতের মানুষ, যাদের পেছনে এলিয়েন ডিএনএ’র অবদান রয়েছে।
এসব শিশুদের সাক্ষাৎ পেয়ে প্রথমে রডওয়েল নিজেও আশ্চর্য হতেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন এরা সাধারণ মানুষ নয়। বুদ্ধিমত্তায় তো বটেই শারীরিক গঠনেও এরা অনেক আধুনিক ও উন্নত। আলাপচারিতায় রডওয়েল জানান, তারা অনেক বেশি উন্নত। তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের চাইতে বেশি। তাছাড়া বহুমাত্রিক (সঁষঃর-ফরসবহংরড়হধষ) জগত সম্পর্কে এদের ধারণা জন্মগতভাবেই রয়েছে।
এই বিষয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছু অভিভাবক তার সন্তানকে নিয়ে আমার কাছে আসেন। তারা বলেন, সন্তানের কথাবার্তায় তারা বেশ শঙ্কিত। সন্তান তার বহুমাত্রিক জগত সম্পর্কে এমন সব কথা বলছে যা কখনই বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু শিশুটি এমনভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে যেন সেটাই স্বাভাবিক।
রডওয়েল আরো বলেন, এসব শিশুদের সাধারণ পড়াশোনার প্রতি তেমন একটা মনোযোগ নেই। কেননা, তারা আরো বেশি কিছু জানে। তবে তাদের দেখলে প্রাথমিকভাবে এডিএইচডি (অঃঃবহঃরড়হ ফবভরপরঃ যুঢ়বৎধপঃরারঃু ফরংড়ৎফবৎ)এ আক্রান্ত বলেই মনে হয়। কিন্তু দেখা যাবে, এদের মধ্যেই হয়ত সেই গোপন দক্ষতাটি রয়েছে।
বিষয়টিকে সমর্থন দিলেও মার্কিন অধ্যাপক এবং ব্যবসায়ী স্যাম চাং জানিয়েছেন আরো ভয়ঙ্কর কথা! তার মতে, পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাবের পর থেকে পরিবর্তনের রীতি চলে আসছে। আগেও অনেক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। জন্ম নিয়েছে নতুন প্রজাতির মানুষ। যারা বুদ্ধি ও শারীরিক গঠনে আগের সভ্যতার মানুষের চাইতে এগিয়ে ছিল বলেই জানা গেছে।
স্যাম চাং বলেন, মানুষের মানসিক ও শারীরিক উন্নতির পেছনে তাদের ডিএনএ’র পরিবর্তনই ছিল মূল কারণ। এটি ধারাবাহিকভাবেই ঘটেছে এবং তা হয়েছে তৃতীয় শক্তির হস্তক্ষেপের কারণে। তার মতে, গোপনে হলেও এখনও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। কিছু মানুষের শরীরে নতুন ডিএনএ স্থাপন করে তৃতীয় কোনো পক্ষ এর কার্যকারিতা দেখতে চায়। যেন মানুষ অনেক বেশি উন্নত হতে পারে। অবশ্য চাং এবং রডওয়েলই যে শুধু বিষয়টি নিয়ে ভাবেন তা নয়! অনেকেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অনেকের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহও দেখা দিয়েছে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার তথ্য অনুসন্ধানের পরিসংখ্যান টানলেই তা স্পস্ট হয়ে ওঠে। আলাপচারিতায় রডওয়েল বলেন, পৃথিবীকে নতুন করে গড়ে তুলতে এসব আধুনিক জাতের মানুষ বেড়ে উঠছে। হয়ত একসময় তারাই দুনিয়ার দখল নেবে। পুরোনোকে ধ্বংস করে গড়ে তুলবে নতুন সভ্যতা। অবশ্য এই ধারা বন্ধের সমাধান হিসেবে স্যাম চাং বলছেন, কোনো বিশেষ অষুধ আবিস্কারের মাধ্যমে ডিএনএ’র পরিবর্তন ঠেকানো যেতে পারে। সেজন্যে প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এসব শিশুদের জন্মের আগেই খুঁজে বের করা।