জন্মদিনে জানা-অজানা হেমা মালিনী

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৯, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হেমার এই জীবনযাত্রা মোটেই ছিল না সহজ। তিনি এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি পুরুষশাসিত বা নায়কশাসিত বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। নায়কের পাশাপাশি হেমাও ছিলেন বক্স অফিসের তুরুপের তাস। তিলে তিলে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। সংসার সামলিয়েছেন। ভারতের রাজনীতিতেও হেমা নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নাচ, অভিনয়, সংসার কিংবা রাজনীতি, যখন যে অঙ্গনে মন দিয়েছেন, সেখানেই সফল হয়েছেন চিরসবুজ তারকা।
তামিল ছবি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও বলিউডে ‘সোলে’, ‘সীতা ঔর গীতা’, ‘মিরা’, ‘কিনারা’, ‘সন্ন্যাসী’, ‘মেহবুবা’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘প্রেম নগর’, ‘খুশবু’র মতো ছবি দিয়েই প্রমাণ করেন তিনি ‘স্টার ম্যাটেরিয়াল’ কি না। অল্প সময়ে হয়ে ওঠেন ‘ড্রিম গার্ল’। সর্বমোট ১১ বার ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পান। ২০০০ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মাননা লাভ করেন।
জন্মদিনে আজ জানুন হেমা মালিনীর কিছু কথা, যা হয়তো আপনি জানেন না।
ছোট্ট চরিত্র দিয়ে শুরু
ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘তারকাসুলভ’ চেহারা নেই বলে তামিল পরিচালক সিভি শ্রীধরের সিনেমা থেকে বাদ পড়েছিলেন হেমা। পরে সেই চরিত্রে অভিনয় করেন জয়ললিতা। ১৯৬৫ সালে ‘পাণ্ডব বনবাসাম’ ছবির একটি ছোট্ট চরিত্রের মাধ্যমে প্রথম বলিউডে প্রবেশ। ১৯৬৮ সালে ‘স্বপ্ন কা সওদাগর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মূল চরিত্রে রুপালি পর্দায় অভিষিক্ত হন। অবশ্য অনেক বাধা পেরোতে হয়েছে তাকে।
সর্বাধিক উপার্জনকারী
তখন বলিউডে পুরুষ শাসন চলছে। একের পর এক তারকার জয়জয়কার। এরই মধ্যে পাল্লা দিয়ে শীর্ষ ১০ উপার্জনকারী শিল্পীর তালিকায় চলে আসেন হেমা মালিনী। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে বলিউডের চতুর্থ সর্বাধিক উপার্জনকারী শিল্পী ছিলেন তিনি।
পর্দায় যথেষ্ট নামডাক এবং উপার্জনে এগিয়ে থাকলেও লেখাপড়ায় খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। তাঁর দৌড় দশম শ্রেণি। দশম শ্রেণি উঠেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন হেমা। ছোট থেকেই তিনি নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, এটাই হয়তো কারণ।
জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যায় তখন দুজনই পরিচিত মুখ। জিতেন্দ্র, হেমা মালিনী। উচ্চ বংশের ছেলে জিতেন্দ্র। পাত্র হিসেবে জিতেন্দ্রকে পছন্দ ছিল হেমার মা-বাবারও। জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার পর একদম শেষ মুহূর্তে নাকি তা ভেঙে দেন হেমা। বাড়ি থেকে বহু চেষ্টা করেও হেমা মালিনীর বিয়ে জিতেন্দ্রর সঙ্গে দিতে পারেনি। যাতে ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকে সরিয়ে আনা যায় হেমাকে। শোনা জায়, সঞ্জীব কুমারও হেমা মালিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। হেমা প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সঞ্জীব মদের নেশায় ডুবে যান। নিজের আত্মজীবনীতে হেমা লিখেছেন, বলিউডের প্রয়াত অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব ছিল তাঁর।
‘বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’ বইয়ের প্রচ্ছদ।‘বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’ বইয়ের প্রচ্ছদ। মা-বাবার অমতে ধর্মেন্দ্রকে বিয়ে।
ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনীর প্রথমবার পর্দা ভাগাভাগি ১৯৭০ সালে, ‘তুম হাসিন ম্যায় জাওয়ান’ সিনেমায়। দুজনে একসঙ্গে অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই সূত্রে প্রেম। হেমার পরিবার কিছুতেই মেনে নেবে না। ওই দিকে ধর্মেন্দ্রর সংসার আছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে স্বপ্নসুন্দরীকে জিতে নেন ধর্ম সিংহ দেওল, বিবাহিত তারকা ধর্মেন্দ্র। ১৯৭৯ সালে বীরু-বাসন্তীর চার হাত এক হলো। শোনা যায়, দুজনেই বিয়ের আগে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। কারণ, নায়ক হয়ে ওঠার আগে ১৯৫৪ সালে প্রকাশ কউরের সঙ্গে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল ধর্মেন্দ্রর। প্রসঙ্গত, ধর্মেন্দ্রর আগের ঘরের সন্তান সানি দেওলের থেকে হেমা মালিনী বয়সে মাত্র ছয় বছরের বড়।
শিল্পকলার প্রতি দারুণ আকর্ষণ রয়েছে হেমার। নাট্যবিহার কলাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন হেমা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, অভিনয়ে সফল হলেও নাচই হেমার জীবনের মূলমন্ত্র। নাচই তাঁর প্রথম ভালোবাসা। নাচে পটু হেমা ভারতীয় সব ধরনের নাচে দক্ষ। পশ্চিমা ঘরানার কিছু নাচও জানা আছে।
হেমার সৌন্দর্যের রহস্য জানার আগ্রহ অনেকেরই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সৌন্দর্যের একমাত্র রহস্য পানি। প্রচুর পানি পান করে ত্বকের পরিচর্চা করেন হেমা মালিনী।
সূত্র: হেমা মালিনীর জীবনী ‘বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’