জন্মনিবন্ধনের আরেক নাম ভোগান্তি

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২২, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


পাসপোর্ট, বিবাহ নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, স্কুলে ভর্তি, জমি রেজিষ্টেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন পড়ছে জন্মসনদের। কিন্তু নতুন করে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে গিয়ে সীমাহীন দূভোর্গের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সনদ পেতে একাধিক শর্ত পূরণ করতে গিয়ে হাঁসফাঁস অবস্থায় পরতে হচ্ছে। এ যেন জন্মনিবন্ধনের আরেক নাম দূভোর্গ আর ভোগান্তি।

পুরোনো থেকে নতুন সার্ভারে যাচ্ছে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা। আর এ ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সার্ভারজনিত কারিগরি জটিলতা। ফলে জন্মনিবন্ধন করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের। ১৭টি সেবার মধ্যে একটি এই জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে বাড়তি খরচ করেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গত বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে সন্তানদের স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করলে জন্মনিবন্ধনে আটকা পড়েন অনেক বাবা-মা। এর আগে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিলেই হতো। কিন্তু নতুন নিয়মে বাবা-মা এবং সন্তানের জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ বলছে, সবাই যেন জন্মনিবন্ধনের আওতায় আসে, সেজন্য নিবন্ধনের আবেদনে কিছু বিষয় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাদের জন্ম ২০০১ সালের পর, তাদের জন্মনিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ে অনেকে অভিযোগ করে বলছেন, মাসের পর মাস ঘুরেও মিলছে না কাঙ্খিত জন্মসনদ। এ সনদ পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সব শ্রেণির মানুষকে।

এর মধ্যে সন্তানদের স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে বাবা-মায়েদের। বয়স্ক কেউ জন্মসনদ নিতে গেলে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে হয়রানি তো আছেই। প্রায় সবখানেই জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা।

সেবাগ্রহণকারী সখিনা অভিযোগ করে বলেন, কোনো কোনো কেন্দ্রে কিছু টাকা দিলেই জন্মসনদ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই আমরা।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা জানান, ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় সার্ভারে ঢোকা যাচ্ছে না। তাছাড়া সার্ভার আপডেটের সমস্যা হচ্ছে। যার জন্য সেবাপ্রার্থীদের ঘুরতে হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ