জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে : রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বক্তব্য রাখছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্টের লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৯ এবং সূচক ১৭.১৯.২-এ ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম নিবন্ধন এবং ৮০ শতাংশ মৃত্যু নিবন্ধনের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বিষয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩)’ এর ধারা ৮ অনুসারে শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু জন্ম নিবন্ধনের তুলনায় যথা সময়ে মৃত্যু নিবন্ধনের হার আশানুরূপ নয়। আগামীতে দেশের সকল নাগরিকের জন্য শুদ্ধ তথ্যভান্ডার তৈরি করার লক্ষ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, একজন ব্যক্তির জন্মের পর থেকে সব সরকারি নথিতে একই রকম তথ্য থাকবে, এটাই হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে সচেতনার অভাবে এতোদিন একেক জায়গায় একেক রকম তথ্য অনেকেই দিয়েছেন। কেউ অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছেন, কেউ আবার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটা করেছেন। তবে সচেতনার অভাবে একটি বড় অংশ এই ভুলটি করেছেন। কিন্তু এখন তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে জন্মনিবন্ধন ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা মিলবে না। তাই এখন থেকেই অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে মিল রেখেই নিতে হবে জন্মনিবন্ধন সনদ। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিবন্ধন সনদ ছাড়াও কারো নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করা হবে না।

রাজশাহী অঞ্চলকে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভায় সভাপতিত্ব করেন- বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ এনডিসি বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় রয়েছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আরো এগিয়ে নিতে জেলার প্রতিটি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রতিটি গর্ভবতী মাকে সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে মাতৃত্বকালীন ভর্তি করাতে হবে। সেখানে তাদের সন্তান প্রসব হলে জন্মনিবন্ধন করা সহজ হবে।

সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধন এর ক্ষেত্রে রাজশাহী জেলা ভালো অবস্থানে রয়েছে। জন্মের ৪৫ দিনের পর থেকে এক বছরের মধ্যে জন্মনিবন্ধন করতে হবে। এছাড়া মৃত্যু নিবন্ধন এর বিষয়টিও একইভাবে করার আইন রয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলা অগ্রগতি অনেক ভালো। জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধন চলতি বছরে শতভাগ নিশ্চত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তারা রাখেন- অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) এএনএম মঈনুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগের স্থানীয় সরকার পরিচালক মো. এনামুল হক, জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। এসময় বিভাগীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ সহ বিভাগের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ