জব্দকৃত বিস্ফোরকের মূল মালিক ইদু কুমিল্লায় গ্রেফতার

আপডেট: মার্চ ৩১, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে চার কেজি ৫৪০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় আরো এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম ইদু মিয়া (৩০)। তিনি কুমিল্লা সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। গ্রেফতারকৃত ইদুই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে কুমিল্লায় বড় বিস্ফোরকের চালান নিতে ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত তিন ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। বিস্ফোরকের দাম মেটানোসহ সার্বিক বিষয়টি তিনি কুমিল্লা থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এবং কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসব তথ্য এখন যাঁচাই করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বুধবার দিবাগত রাতে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে রাজশাহীতে আনা হয়। বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শক্তিশালী ওই বিস্ফোরকগুলো ইদুর কাছেই পৌঁছানোর কথা ছিল।
এর আগে গত সোমবার রাতে নগরীর শিরোইল এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আকুইশা গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুল লতিফ (৩৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বারিকবাজার গাজিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাকিরুল ইসলামকে (৩৪) বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিস্ফোরকের সরবরাহকারী হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁদলাই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বোয়ালিয়া থানায় আলাদা দুটি মামলা করে পুলিশ।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানান, বুধবার তিনি তিন আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার আবেদনের শুনানি হয়। এই দিন আসামি ইদুকেও আদালতে তুলে তারও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত ইদুর সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর বাকি তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর হয় পাঁচ দিন করে।
মতিউর রহমান জানান, রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক জুলফিকার উল্লাহ বিকেলে রিমান্ডের এই আদেশ দিয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় সব আসামিকেই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করছেন এই তদন্ত কর্মকর্তা।
এদিকে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছেন নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির আহমেদ। তিনিও সব আসামিকে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছেন। প্রথম রিমান্ড শেষ হলে তার আবেদনের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এসআই নাসির আহমেদ বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো ঢাকা হয়ে কুমিল্লা যেত। সেসব বিস্ফোরক দিয়ে বোমা বানিয়ে তা নাশকতার কাজেই ব্যবহার করা হতো। তবে আসামিরা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কী না তা তারা পুলিশকে জানায় নি। এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
এদিকে আরএমপি এবং সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইদুকে কুমিল্লা থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ একটি টিম গ্রেফতার করে। এরপর কুমিল্লা থেকে রাজশাহী নেয়ার পথে এবং রাজশাহী পৌঁছানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে ইদু চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ সীমান্তে বিস্ফোরকদ্রব্য পাচারের বিশাল নেটওয়ার্ক সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। ইদুর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আমরা আশা করছি, ইদুসহ এ নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবো।
গত বুধবার দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারেই বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী বাসে আসামি আবদুল লতিফ ও সাকিরুল ইসলামের কাছে মোট ৪ কেজি ৫৪০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পটাশিয়াম ক্লোরাইড দুই কেজি ৩৪০ গ্রাম, সালফার দেড় কেজি ও লেড অ্যাজাইড ৭০০ গ্রাম। এসব বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে খুবই শক্তিশালী বোমা বানানো যায়।