জমি নিয়ে বিরোধে রাস্তা বন্ধ করে শাস্তি

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর দুর্গাপুরের দেলুয়াবাড়ি গ্রামে সালিশি বৈঠক অমান্য করে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। অবরুদ্ধ পরিবারের মালিক মোজাম্মেল হক এ ঘটনায় আদালতে পৃথক দুইটি মামলাও করেছেন। মামলাটি বর্তমানে দুর্গাপুর থানা পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশে মিমাংসা করা হলেও তা অমান্য করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে পরিবারটি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সরেজমিনে যাওয়া হলে রাস্তাটি বন্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
জানা গেছে, উপজেলার দেলুয়াবাড়ি মৌজায় দেলুয়বাড়ি গ্রামের আব্দুর রহমানের কাছ থেকে এক বছর আগে দুই দাগে মোট ২২ শতক জমির মধ্যে ৭ শতক জমি কিনে তাতে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন মোজাম্মেল হক। পরে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে মোজাম্মেল ও প্রতিবেশী ইসলাম আলীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তাতে মোজাম্মেল হকের মাথাও ফেটে যায়। এ নিয়ে মোজাম্মেল হক গত বছরের ২০ জুলাই দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে দুর্গাপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। বর্তমানে দুর্গাপুর থানার এসআই কামরুজ্জামান মামলাটি তদন্ত করছেন।
এর আগে গত বছরের ২৫ মার্চ বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠক বসানো হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষকে যাতায়াতের রাস্তার জন্য সাড়ে ১২ ফুট করে জমি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু গত এক সপ্তাহ আগে কাঠ ও বাঁশের বেড়া দিয়ে পুনরায় রাস্তাটি বন্ধ করে দেয় ইসলাম আলী। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে মোজাম্মেল হকের পরিবার। যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় অন্যের ফসলি জমি দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ