জমি রেজিস্ট্রি করে না দেয়ায় বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করলো ছেলে

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


নাহার বেগম ছয় বছরের ফিমা খাতুন ও চার বছরের মুলিমাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ভাঙা ঘরের বারান্দায় বসে কাঁদছেন-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘায় জমি রেজিস্ট্রি করে না দেয়ায় নিজের বাবার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে ছেলে আকালী হোসেন। গত রোববার বিকেলে উপজেলার আড়ানী হামিদকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাবা ইউনুস আলী বাদি হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর থেকে ইউনুস আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী নাহার বেগম ছয় বছরের ফিমা খাতুন ও চার বছরের মুলিমাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ভাঙা ঘরের বারান্দায় বসে কাঁদছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আড়ানী হামিদকুড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে আকালী হোসেন (৩০) বাবার সমস্ত জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে চায়। বাবা জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে না চাইলে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তার ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছে না বাবা। ফলে নিরুপায় হয়ে ওইদিন বাঘা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
আকালীর চাচা আশরাফ আলী জানান, আকালী এলাকার একজন সন্ত্রাসী ও ডাকাত নামে পরিচিত। তার নামে থানায় চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র, রাহাজানিসহ একাধিক মামলা আছে। এছাড়া একাধিকবার জেলও খেটেছে। আমাদের কারো কথা শোনে না সে। এলাকায় যা ইচ্ছা তাই করে বেড়ায়। তার ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। সে তার বাবার কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করার চক্রান্ত করছে। জমি রেজিস্ট্রি করে না দেয়ায় বাবাকে মারপিট করে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী ইউনুস আলী জানান, আমার ছেলে আকালীর অত্যাচারে তার মা বেগম আরা ১১ বছর আগে আত্মহত্যা করেছে। আমি পরে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে আমার উপর অত্যাচার বাড়িয়ে দিয়েছে। আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর কোলে দুইটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাদের জন্য কিছু করতে হবে। কিন্তু তার দাবি- তারা কি পাবে কি পাবে না, বাড়ির জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে চায়। এই জমি রেজিস্ট্রি করে না দেয়ায় আমার তিনটি ঘর ভাঙচুর করেছে। গরু-ছাগল, মালামাল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া বাড়ির আঙিনার গাছপালা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। অবশেষে আমি বাদী হয়ে বাঘা থানায় ছেলের নামে অভিযোগ করেছি।
ইউনুস আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী নাহার বেগম ছয় বছরের ফিমা খাতুন ও চার বছরের মুলিমাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ভাঙা ঘরের বারান্দায় বসে কাঁদছে। নিরুপায় হয়ে এখন কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আকালী রোড রাবারিং, চুরি, ডাকাতি, অস্ত্র, ছিনতাইসহ একাধিক মামলার আসামি।