জরায়ুতে ফাইব্রয়েড কতটা ভয়ের?

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২২, ১:০৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও পেট ব্যথা হচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। এক পর্যায়ে শরীরে ভর করে প্রচণ্ড দুর্বলতা। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হল; জানা গেল জরায়ুতে বেড়ে উঠছে ফাইব্রয়েড।

শারীরিক এই জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে কাবু করছিল ঢাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী গৃহিনী ফারিয়া ইসলামকে। তবে সমস্যা ধরা পড়ার পর চিকিৎসায় উপশম পেয়েছেন তিনি।

সেই অভিজ্ঞতার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়ে ফারিয়া বলেন, “প্রথমে তেমন সিরিয়াসলি নেইনি। কিন্তু পরে দেখলাম, দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে, শক্তি পাচ্ছি না।”

ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করে যখন জরায়ুতে ছোট ছোট চারটি ফাইব্রয়েড বা টিউমারের উপস্থিতি জানা গেল, চিকিৎসা নিতে দেরি করেননি ফারিয়া।

“ডাক্তার জানালেন, এগুলো এখনও খুব বেশি বড় হয়নি। ওষুধ দিলেন। বিয়ের পরপরই কনসিভ করে ফেললাম। তারপর সিজারের সময় ডাক্তার এগুলো ফেলে দিয়েছে। এখন আর তেমন কোনো সমস্যা নেই।”

ফাইব্রয়েড হল এক ধরনের টিউমার, যা জরায়ুর মসৃণ পেশি কোষ থেকে তৈরি হয়। প্রজননক্ষম বয়সে এ সমস্যা দেখা দেয়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের কাছে গাইনি সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের একটি বড় অংশ মায়োমা বা ফাইব্রয়েড আক্রান্ত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক প্রধান সালমা রউফ বলেন, ফাইব্রয়েড বেশি বড় হয়ে গেলে তলপেট ভারী লাগে, প্রস্রাব করতে সমস্যা হয়।

ফাইব্রয়েডের কারণে মাসিকের সময় বেশি পরিমাণে রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থা এবং প্রসবেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারো বেলায় বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে ফাইব্রয়েড।

প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন নারী ফাইব্রয়েডে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, পেট ব্যথা, কোমরের নিচে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, সহবাসের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি বোধ করার মত উপসর্গে ভোগেন।

বেসরকারি চাকরিজীবী সুস্মিতা দাস বিয়ের চার বছর পার করেও সন্তানধারণ করতে পারছিলেন না। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার বেলাতেও জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা টিউমার ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, “প্রথমে অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে সন্তান নিতে পারব কি না তা নিয়েও সংশয় কাজ করছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়েও জটিলতা কমছিল না।

“অপারেশন করানো নিয়েও ছিল নানা শংকা। পেট কেটে অপারেশন করলে তো সিজারে অসুবিধা হতে পারে। জরায়ু কেটে ফেলতে হয় কি না, এগুলো মাথায় ঘুরছিল।”

অবশেষে চিকিৎসকের পরামর্শে ল্যাপারোস্কপিক সার্জারির মাধ্যমে ফাইব্রয়েড অপসারণের পর থেকে বেশ ভালো আছেন বলে জানালেন সুস্মিতা দাস।

“ল্যাপারোস্কোপি করে টিউমার ফেলে দেওয়ার পর এখন কোনো সমস্যা নেই। ডাক্তার ফলোআপে রেখেছেন। এখন নাকি কনসিভও করতে পারব।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ