‘জরায়ুর বাইরে’ বাড়ল শিশু, ভূমিষ্ঠ হলো নিরাপদে

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



মায়ের জরায়ুর বাইরে পেটের ভেতরে বেড়ে ওঠার পর নিরাপদে এক শিশুর জন্ম হয়েছে ঢাকার একটি হাসপাতালে, যাকে বিরল ঘটনা বলছেন চিকিৎসকরা।
মাদারীপুরের একটি ক্লিনিক থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মা দীপা রানি। রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি জন্ম দেন একটি কন্যা শিশুর।
হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস অধ্যাপক গুলশান আরা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই ধরনের পরিস্থতিকে বলা হয় অ্যাবডমিনাল প্রেগন্যান্সি। ওই রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল পেট কাটা অবস্থায়। গুলশান আরার নেতৃত্বে আট সদস্যের চিকিৎসকদল প্রায় দুই ঘণ্টা অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। জন্মের পর শিশুটি এবং মা দুজনই সুস্থ রয়েছেন।
এভাবে জরায়ুর বাইরে শিশুর বেড়ে ওঠা এবং সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করার ঘটনা খুবই বিরল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
“মায়ের পেটে শিশুটি ৩৯ সপ্তাহ ধরে বেড়ে উঠলেও তা ছিল নির্ধারিত জায়গা জরায়ুর বাইরে। এসব ক্ষেত্রে শিশু বা মায়ের বেঁচে থাকার হার খুবই কম,” বলেন  গুলশান আরা।
তিনি বলেন, “জরায়ুর বাইরে শিশুর জন্ম এবং বেড়ে ওঠাটা অস্বাভাবিক কিছু না। হাজারে একটা ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে সাধারণত এ ধরনের নবজাতকরা ২৪, ২৫ কিংবা সর্বোচ্চ ৩০ সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে এই শিশুটি পূর্ণ সময়ই মায়ের জরায়ুর বাইরে বেড়ে উঠেছে, যা বিরল।” জরায়ুর বাইরে কীভাবে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জরায়ুতে সাধারণত শিশু খাবার গ্রহণ করে প্লাসেন্টার মাধ্যমে। প্লাসেন্টা জরায়ুর বাইরেও হতে পারে। শিশুটি হয়তো জরায়ুর বাইরের প্লাসেন্টার মাধ্যমে খাবার গ্রহণ করেছে।”
স্বজনরা জানিয়েছেন, মাদারীপুরের একটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতেন দীপা। শুক্রবার সকালে তাকে ওই ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে ভূমিষ্ঠ করানোর জন্য অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে দীপার পেটও কাটা হয়। কিন্তু শিশুটিকে জরায়ুর বাইরে দেখে কাটা অংশ সেলাই করে দ্রুত ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন তারা।
সিএনজি রূপান্তর কারখানার কর্মী দীপার স্বামী আকাশ হালদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ডাক্তারদের পরামর্শেই তারা দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসেন দীপাকে।
দীপার ভাই পঙ্কজ কুমার ম-ল বলেন, “মাদারীপুরের এক ডাক্তার দেখে তিনি ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের এক ডাক্তারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই তারা সেখানে অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে পেট কাটার পর জরায়ুর বাইরে শিশুটির অস্তিত্ব ধরা পড়লে ওই ডাক্তার ঢাকায় নেয়ার কথা বলেন।”
আদ-দ্বীন হাসপাতালের উপ-পরিচালক নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, “আমার জানা মতে, জরায়ুর বাইরে পূর্ণ সপ্তাহ (টার্ম প্রেগন্যান্সি) অতিক্রম করে শিশুর সুস্থভাবে জন্মগ্রহণ করার ঘটনা বাংলাদেশে বিরল। ২.৮ কেজি ওজনের এই শিশুকন্যা জন্মগ্রহণের পর স্বাভাবিক রয়েছে। মায়ের বুকের দুধও স্বাভাবিক নিয়মে পান করছে।”
এই চিকিৎসক জানান, তার জানা মতে, প্রায় ৮/৯ বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ধরনের জটিলতা নিয়ে এক নারী সন্তানের জন্ম দিলেও তার বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।
“সর্বশেষ আলট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়ার কথা। কিন্তু মাদারীপুরের ওই ক্লিনিকের এক চিকিৎসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গর্ভফুল নিচে এবং উল্টো অবস্থায় শিশুটি অবস্থান করছে, যা ঠিক ছিল না।”
নাহিদ ইয়াসমিন জানান, ৮ থেকে ১০ হাজার গর্ভবতী মায়ের মধ্যে মাত্র একটি অ্যাবডোমিনাল প্রেগন্যান্সি হতে পারে। তবে সেসব ক্ষেত্রে শুরু থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয় এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে যায়।”
এটি দীপার দ্বিতীয় সন্তান। প্রথমটি ছেলে, বয়স সাড়ে পাঁচ বছর।- বিডিনিউজ