জলবায়ু ও জীবন রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ || সম্মেলনে বক্তারা

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পরিবেশ, জ্বালানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়নকর্মীরা জ্বালানি ও যুব জলবায়ু সম্মেলনে বলেছেন, জলবায়ু ও জীবন রক্ষায় প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নগর ও পল্লী অঞ্চলে জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার করা প্রয়োজন বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। সম্মেলনে তারা বলেন, সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জলাভূমি ও পানি সম্পদসহ প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষায় এখনই সময় এসেছে এগিয়ে আসার।
‘নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করি, পরিবেশ ও জীবন সুস্থ রাখি’ শ্লোগানে গতকাল রোববার নগরীর মিয়াপাড়াস্থ রাজশাহী সাধরাণ গণগ্রন্থাগারের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত ‘সবুজ জ্বালানি ও যুব জলবায়ু সম্মেলন-২০১৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, সম্মেলনের উদ্বোধক পরিবেশবাদী কার্তিক প্রামানিক। প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অভিজিৎ রায়, নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মাহাবুব সিদ্দিকি।
জার্মান ভিত্তিক দাতা সংস্থা মিজারিওর-এর সহযোগিতায় যুব সমাজকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস, বরেন্দ্র তরুণ ঐক্য, রাজশাহী কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট-আরসিডি, স্বপ্নচারী উন্নয়ন তরুণ সংগঠন, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব নর্থ বেঙ্গল, ইচ্ছেসহ রাজশাহী জেলা ও মহানগরের মোট ১৭টি যুব সংগঠনের সহায়তায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নোলেজ (বারসিক) দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
বারসিকের ইসমত জেরিন ও জিসাত আরা ইসলামের সঞ্চলনায় সম্মেলনে বারসিক’র গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। এতে শুধুমাত্র জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভশীল না থেকে জ্বালানির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন এবং বিদ্যুতের সাশ্রয় ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে ব্যাপকভাবে জ্বালানি-সাশ্রয়ী পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপও করেন বারসিক’র গবেষক শহীদুল ইসলাম। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারে বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার জন্য সচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া সৌরশক্তি ভিত্তিক সেচ কাজ করার বিষয়টি জরুরিভাবে বিবেচনা করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সোনারদেশ পত্রিকার সাংবাদিক শামীউল আলীম শাওন, ইচ্ছে’র সভাপতি আহসান হাবিব, রাবির সায়েন্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান, স্বপ্নচারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি রুবেল হোসেন মিন্টু, রাজশাহী কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট-আরসিডি‘র ডিরেক্টর সৈয়দ রাগীব হাসান আলোর পথে তরুন সংঘ‘র সহ সভাপতি ইমতিয়াজ আহম্মেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে জ্বালানি সচেতনা ও অধিকার বিষয়ক গম্ভীরা পরিবেশন করা হয় এরপর যুব নেতারা জলবায়ু ও সবুজ জ্বলানি সুরক্ষায় তাদের আগামি দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি ঘোষণা শেষে তারা শপথ পাঠ করেন। যুব নেতাদের শপথবাক্য পাঠ করান শিশু সাদিয়া আফরোজ।
সবুজায়ন ও জ্বালানী উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকার রাখায় অনুষ্ঠানে বারসিকের পক্ষ থেকে ৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা জানানো হয়। জ্বালানী সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশনে সম্মাননা পান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক ড. আইনাল হক। বৃক্ষ রোপনে বিশেষ অবদানে সম্মাননা পান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কার্তিক প্রামানিক।
পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরি ও সম্প্রসারণে বিশেষ অবদানে সম্মাননা পান রাজশাহীর তানোর উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের কবুলজান বেগম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার পুকুরিয়াপাড়া গ্রামের নায়মা বেগম। সবুজ ক্যাম্পাস তৈরিতে সম্মাননা পায় রাজশাহী মহানগরীর মেহেরচ-ি উচ্চ বিদ্যালয়। আর বায়ু দূষণ কমানোয় অবদান রাখায় সম্মাননা পায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন।
এদিকে সকালে সম্মিলিতকণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মাধ্যমে সম্মেলনে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর পরিবেশবাদী কার্তিক প্রামানিক সম্মেলন প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপণ করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনের পরে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি সম্মেলন প্রাঙ্গন থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুর্ণরায় সম্মেলন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।