জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইউনিসেফ এর নতুন এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হচ্চে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪৫ শতাংশেরও বেশি পুষ্টিহীন বা অতিরিক্ত ওজন ও গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আর বাংলাদেশে শিশু পুষ্টির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় হুমকি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে কিছুটা উন্নত পরিস্থিতিতে থাকলেও তা নিয়ে খুব উৎসাহিত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং বাংলােেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস কিংবা অভিযোজনের মত টেকসই ব্যবস্থাগুলোর প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়ার সময় এসেছে। বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রবণতা বহুমুখি এবং ঝোঁকটা খুবই প্রবল। প্রতি বছর দুর্যোগের মুখে পড়ে দরিদ্র মানুষ তাদের সহায়-সম্বল হারাচ্ছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা প্রবণতার মত দুর্যোগর কোনো একটা লেগেই থাকে। আর দুর্যোগ মানেই দরিদ্র মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। খাদ্য যোগাড় করতেই যাদের দিন অতিবাহিত হয়- ওই সব মানুষের ওপর দুর্যোগ মানে তাদের সক্ষমতা ও সম্বলের সবটুকুই নিঃশেষ হয়ে যায়। এসব মানুষদের সম্পূর্ণরূপে নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে আনাও সম্ভব হয় না।
ইউনিসেফ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বন্যার ভয়াবহতা ও নদী তীর ভাঙনের ফলে পরিবারগুলো শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। সেখানে লোকজনের উপচেপড়া ভিড় বিরাজ করে। এসব বস্তিতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি পরিষেবার অভাব রয়েছে। ফলে শিশুরা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ভুগছে।
চরম জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা যেমন খরা ও বন্যার ফলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা ও খরায় ফলন কমে গিয়ে খাবারের দাম বেড়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র পরিবারগুলো। তারা কেনার ক্ষমতা একেবারে হারিয়ে ফেলে। তখন তারা সরকারি বা অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এ বছর তার জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও অ্যাকশন পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করবে। এই কৌশলটি দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের চাহিদার ওপর আরও বেশি জোর দেবে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করে শিশু পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্যান্য পরিষেবা নিশ্চিতের ওপর জোর দেয়া হবে।
আমরাও মনে করি জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও অ্যাকশন পরিকল্পনায় ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের জীবন-উত্তরণের উপায় থাকবে যা তাকে নিঃস্ব হওয়া থেকে বারিত করবে এবং তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে দ্রুত নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে আনতে হবে। যাতে করে তারা অসহায়- দিশেহারা হয়ে না পড়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ