জলবায়ু পরিবর্তনের ফল, ‘জীবন্ত সিদ্ধ’ হলো লাখ লাখ শামুক

আপডেট: February 20, 2020, 1:14 am

সোনার দেশ ডেস্ক


সংখ্যায় তারা একটি-দুটি নয়। কয়েক শত বা কয়েক হাজারও নয়। অর্ধ মিলিয়ন অর্থাৎ পাঁচ লাখেরও বেশি শামুক ‘জীবন্ত সিদ্ধ’ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ড দ্বীপের মাউনগানুই ব্লাফ উপকূলে মৃত এসব শামুকের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অস্বাভাবিক বিপুল পরিমাণ এ শামুকের মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অকল্যান্ডের বাসিন্দা ব্রানডন ফার্গুসন মৃত এ শামুকগুলোর সন্ধান পান।
পরে ফেসবুক মৃত শামুকের ছবি ও ভিডিও ছেড়ে দেন ফার্গুসন। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উপকূলের প্রস্তরময় এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ফার্গুসন। তার আশপাশে মৃত শামুকের স্তূপ। হাঁটার সময় শামুকের স্তূপে তার প্রায় হাঁটু পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছে। আর তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘এগুলো সবই মৃতৃএকটি শামুকও নেই যে জীবিত আছে।’
নিউজিল্যান্ডের ওয়াইকাতু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সামুদ্রিক পরিবেশবিদ ক্রিস ব্যাটারশিল। বিপুল সংখ্যক এ শামুকের মৃত্যুর জন্য তিনি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক লাখ শামুকের অস্বাভাবিক এ মৃত্যু এই প্রথম কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা বিপুলসংখ্যক টুয়াটুয়া ককলস ও ক্লামস (এক ধরনের ঝিনুক) মরে যেতে দেখেছি।’
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘অত্যধিক গরম ও দীর্ঘসময় স্থায়ী নোংরা পানিতে অক্সিজেনের অভাবে শামুকগুলো মারা যাচ্ছে।’
“দীর্ঘসময় সূর্যের আলোর কারণে সমুদ্রের পানি অত্যধিক গরম হয়ে যাচ্ছে এবং পানি এক জায়গায়ই স্থির থাকছে। যে কারণে প্রাণীগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে যা ঘটছে তা মারাত্মক। কার্যত এগুলো ‘জীবন্ত সিদ্ধ’ হয়ে মারা যাচ্ছে”-যোগ করেন ক্রিস।
এই সমুদ্র বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এখানকার ভয়াবহ এই অবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি। আসলে এটা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আর আমার ধারণাই সঠিক।’
‘শামুক হলো কষ্টসহিষ্ণু ক্ষুদ্র প্রাণী। লক্ষ্য করুন, এই প্রাণীগুলোকে যখন স্বল্প জায়গায় চাষ করা হয়, তখন মনে তারা যেন কোনো সুপার মার্কেটে বাস করছে। এবার ধারণা করুন, সমুদ্রের অবস্থা কত জটিল হলে তারা মারা যাচ্ছে! এভাবে শামুকের আমরা বিভিন্ন প্রজাতিকে হারিয়ে ফেলছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের বসা উচিত এবং এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত।’ বলেন, পরিবেশবিদ ক্রিস ব্যাটারশিল।
এত সংখ্যক শামুকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ডের সমুদ্র বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রিউ জেফসও।
এএফপিকে তিনি বলেছেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে এসব শামুক প্রজাতি অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পানিতে চলে যাবে।’
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ