জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে নগরবাসী ।। রাজশাহীতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ভারী বর্ষণে নগরীর উপশহর এলকার একটি রাস্তার দৃশ্য-সোনার দেশ

ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নগরজুড়ে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে থেমে থেমে নামছে ঝুম বৃষ্টি। গতকাল বুধবার দুপুর একটা পর্যন্ত চলে টানা বৃষ্টি। এরপর বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা থেকে আবার শুরু হয়।
আবহাওয়া অফিসের ভাষ্য, এটিই এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। ভারি বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নগরীর নিচু এলাকাগুলো। দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ। ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষসহ বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পড়েছে বেকায়দায়।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, রাজশাহীতে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল বুধবার বিকেলে চারটা পর্যন্ত ১১৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর রাত ৮টা ৫ মিনিট থেকে রাত সোয়া নয়টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার।
তিনি আরো বলেন, সকাল ৬টার দিকে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ ও সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। এই বৃষ্টিপাত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে অনেকটাই কমে যাবে। তবে আকাশ মেঘপূর্ণ থাকলেও হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে জলাবদ্ধতায় শুধু রাস্তাঘাট নয়, ডুবে গেছে বাড়ি-ঘরসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। আর এ জন্য নগরবাসী সিটি করপোরেশনের ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। বৃষ্টিতে নগরীর সাহেববাজার, মিয়াপাড়া, রাণীবাজার, গণকপাড়া, শালবাগান, উপশহর, স্টেডিয়াম এলাকা, কোর্ট এলাকা, লক্ষ্মিপুর, মহিষবাথান, ভাটাপাড়া, চন্ডিপুর, হেলেনাবাদ কলোনি, বুলনপুর, হড়গ্রাম, ছোটবনগ্রাম, সপুরাসহ নিচু এলাকাগুলোয় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি উঠেছে বাসাবাড়ি-অফিসে। এতে দুর্ভোগের শেষ নেই। দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাত কমলেও দুর্বল নিস্কাশন ব্যবস্থায় ধীরগতিতে নামছে পানি।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে তারা দুপুর পর্যন্ত দোকান খুলতে পারেন নি। সকাল থেকেই ছিলো জলাবদ্ধতা, রাস্তায় হাঁটুপানি। যানবাহন চলাচল নেই বললেই চলে। নেই লোকজনও। ফলে বেচাবিক্রি উঠছে শিকেয়।
নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উপশহরের বাসিন্দা আবদুস সামাদ জানান, বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে উপশহর। এ জন্য সিটি করপোরেশনই দায়ী। করপোরেশন কর্তৃপক্ষ যদি সঠিক সময়ে ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতো তাহলে এ দুর্দশা হতো না।
নগরীর মহিষবাথান এলাকার আসক্ত পুর্নবাসন কেন্দ্রের প্রকল্প দফতরে উঠেছে পানি। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুলাহ আল রেজা জানান, সকালে তারা দফতরে এসে দেখেন হাঁটু পানি। আসবাবপত্র ডুবে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও মালপত্র। পানি না নামায় কাজ করতে পারেন নি দুপুর তিনটা পর্যন্ত।
নগরীর মিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, এমনিতেই আমাদের এলাকা মূল শহর থেকে একটু নিচু, বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এবার সড়কের পাশের প্রধান ড্রেনগুলো মোটামুটি পরিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু ওই বাসাবাড়ির পেছন দিয়ে যাওয়া প্রধান ড্রেনগুলো আগের মতই ভরাট। ফলে ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি থামলেও নামছে না পানি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছরই বর্ষার আগে নগরীর নিষ্কাশন নালাগুলো পরিস্কার করে রাসিক। এবারও টেন্ডারের মাধ্যমে এ কাজ হয়েছে। তবে এবার পুরো কাজ হয়েছে লোকদেখানো। অথচ বিল নেয়া হয়েছে পুরোই।
জলাবদ্ধতার ব্যাপারে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, নগরীর নিচু এলাকায় ড্রেন সংস্কার চলছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এ জলাবদ্ধতা সাময়িক। পানি অল্প সময়ের মধ্যে নেমে গেলে নগরবাসীর আর ভোগান্তি খাকবে না।