জসীমউদ্দীন এর মুক্তিযুদ্ধের কবিতা

আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

ইলিয়াস বাবর



জসীমউদ্দীন বাংলাভাষা ও বাঙালী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হওয়া সত্ত্বেও মৌলিক কবির মধ্যে সম্ভবত তাঁর খোঁজই আমরা কম রাখি। কম রাখা অপরাধের পর্যায়েই পড়ে; এর মধ্য দিয়ে বিস্ম”তিপরায়নতাকে যতœ সহকারে উসকে দেয়াও হয়ে যায় বৈকি! জসীমউদ্দীন-এর স”ষ্টি মাটিঘেঁষা; পরম মমতায় তিনি লোকায়ত ধারাকে পরিচর্যা করেছেন। সময়ের কার্নিশে লুকায়িত সত্ত্বাকে তাঁর অনুসন্ধিৎসু চোখ এবং ধীমান কলম ধরতে চেয়েছিল। তিনি এক্ষেত্রে একক এবং উত্তরসূরিহীন। কবির সবচেয়ে বড় অপরাধ তিনি নজরুল-জীবনানন্দের সমসাময়িক এবং ত্রিশের উত্তুঙ্গ সময়ে বর্তমান হয়েও একাকী। কল্লোল-এ অনেক লেখা ছাপার পরেও তিনি ছিলেন তাঁর ধারায় অবিচল; ড. আনিসুজ্জামান যেমন বলেন- ‘তাঁর জগৎ ছিল একান্তই গ্রামীণ; যেসব মানুষকে তিনি অন্তরঙ্গভাবে জানতেন, তাঁরা সবাই ছিলেন মাটির সঙ্গে বাঁধা।’ বলতে গেলে ‘একার সন্ন্যাস’ই তাঁর অনিষ্ট, অনেকটা একাডেমিপুষ্টও। রবীন্দ্রনাথের মহত্তম ছায়ায় ছিলেন সপ্রশংসভাবে এবং পেয়েছিলেন দীনেশচন্দ্রসেনসহ কলকতাকেন্দ্রিক সাহিত্যবোদ্ধাদের। সাদাচোখে এভাবে আসলেও তাঁর প্রচ- সংগ্রাম ছিল জীবনে-সাহিত্যে। সহজিয়া-গীতল ধারা তাঁর কাব্যে প্রবাহমান; ধারাবাহিকভাবে উঠে আসে বাপ-দাদার পীরিতের ইতিহাস, বেদনাময় কবরখানার কান্না, পুঁথিময় ঘোরলাগা এক রসের হাঁড়ি যেন তাঁর স”ষ্টি। করুণ রসও যুগপৎ হাত ধরাধরি করে চলে ওতে। এবং বর্তমান প্রজন্ম বলতে গেলে ভুলতেই বসেছে প্রিয় কবি জসীমউদ্দীনকে। এর বড় প্রমাণ শ্রেণিকক্ষের পাঠে কবির নামের অশুদ্ধ ব্যবহার; এমনকি বহুনির্বাচনি প্রশ্নপ্রত্র কবির নাম সর্ম্পকিত! অন্যান্য প্রশ্নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় তাঁর নামের প্রশ্নটি। আমরা আছি কোথায়? সাহিত্যালোচক কিংবা বোদ্ধা কারো কলমই তেমন টানে না ‘পল্লীকবি’ অভিধার ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলা মহান এ সাহিত্যিককে। খালেদ হামিদি যেমন বলেন- ‘…অথচ জসীমউদদীনকে, যাকে টান দিলে বাংলার শেকড়শুদ্ধ উঠে আসে, উত্তরাধুনিকদের ধরণে আমরাও দূরে সরিয়ে রাখি এখনো!’ এ কথা যেমন বাস্তব তেমনি স্বীকার্য।
যেখানে জসীমউদদীন-এর কবিসত্ত্বাই আমাদের কাছে পুরনো, সেখানে মহান মুুক্তিযুদ্ধনির্ভর তাঁর যে স”ষ্টিকর্ম তো আড়ালে থেকেই যাবে! এবং ‘একুশের কবিতা’ নামক তাঁর যে কবিতা তা এখনো একুশের মহৎ কবিতাগুলোর মতই আধুনিক ও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নামে-বেনামে তিনি অনেক লেখার জন্ম দেন এবং তা দেশের গন্ডি পেরিয়ে রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হলে স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আমরা এক্ষণে কবি জসীমউদ্দীন-এর যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অগ্নিঝরা স”ষ্টি সম্ভারে একটু ডুব দিতে পারি। লেখাগুলো যুদ্ধের প্রত্যক্ষতায় যেমন আমাদের সুযোগ দেয় তেমনি একজন দেশপ্রেমিক শিল্পীর হৃদয়ক্ষরণের সাক্ষ্যই পলে পলে প্রমাণ করে। ড. ফজলুল হক সৈকত এ প্রেক্ষিতে বলেন- ‘…তাঁর সেই সূক্ষ্ম বুনোনির আঁচড়ে বাঙালির হৃদয়-আর্তির প্রকাশ পেয়েছে নানান মাত্রায়। সেই ভয়াল সময়ের চমৎকার ভাষারূপ জসীমউদদীনের ভয়াবহ দিনগুলিতে।’
মহৎ যে কোন শিল্পীই দেশের দুর্দিনে নীরব থাকতে পারেন না। কবি-সাহিত্যিকেরা তাদের হাতের কলমকেই যুদ্ধাস্ত্র করে কাঁপিয়ে দেয় শত্রুশিবির। সৈয়দ হক বিদেশে থেকে, আল মাহমুদ, জহির রায়হান ওপারে থেকে যেমন যুদ্ধ চালিয়ে যান, তেমনি শামসুর রাহমান কিংবা জসীমউদ্দীন দেশের রণমাখা বেদানার্ত মাটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অংশগ্রহণ করেন জাতির মহত্তম ঘটনায়। বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এ যুদ্ধ শুধু মুক্তিযুদ্ধনির্ভর দলিলও বটে। ‘কবির নিবেদন’ নামক কবিতায় ঋতুর বৈচিত্রহারা রূপসিবাংলার খানসেনাদেও নির্মম অত্যাচারের করুণ ছবি আঁকেন জসীমউদদীন-
সে বাঙলা আজি বক্ষে ধরিয়া দ” গ্রামের মালা
রহিয়া রহিয়া শিহরিয়া উঠে উগরি আগুন জ্বালা
দস্যু সেনারা মরন-অস্ত্রে বধি ছেলেদেও তার
সোনার বাঙলা বিস্তৃত এক শ্মশান কারাগার।
পাকিস্তানি বর্বরদের নির্মমভাবে তিনি শুধু তুলনাই করেন না বরং এ হিং¯্রতা দেখে তৈমুরলং নাদির দেখেও যে লজ্জা পাবে একথা বলতেও ভুলেন না। প”থিবীর মানবতাবাদিদের কাছে ফরিয়াদ করেনÑ ‘নিষ্ঠুর এজিদের কারাগার’ ভাঙতে। শেষ পর্যন্ত শিল্পীসত্ত্বার আবেগ উগরে দেন এভাবেই: ‘তাদের দীর্ঘ নিশ্বাসে ভরি উড়ানু পত্রখানি,/ এই আশা লয়ে তোমাদের থেকে পাব আশ্বাস বাণী।’
‘ইসলামী ভাই’ কবিতায় পূর্ব-পশ্চিম একই ধর্ম বাধায় আবদ্ধ একথা বলতে ভোলেন না কবি। কোরান এক, রসুল এক এবং এদিক দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিদের ভাইজ্ঞান করে ‘আপেল আনার সঙ্গে এনেছে’ মনে করে সরল বিশ্বাসে। সহসাই ভুল ভাঙে চিরকালিন সরল বাঙালিদের। তারা দেখে-
হয়েছে দুরাশা! আকাশ-ফাটানো ছুড়িয়া বুলেট-গুলি
নরহন্তার বেশে নাচে সেই ধর্মের ভাইগুলি
ভ্রাতৃপ্রেম যে সংহারক রূপে হইয়াছে রূপায়ন
সংহতি আবহমান লভেছে কামানের গরজন।
এ দেশীয় শয়তানেরা ধর্মের অপব্যাখ্যায় কোরান-হাদিসের অপব্যাখ্যায় স্বার্থ হাসিল-এ উৎসাহি হয়েছে বরাবরই; বাদ যায়নি একাত্তুরের উত্তুঙ্গ সে সময়ে। কবি যেমন লেখেনÑ
রহিয়া রহিয়া রসুলের বাণী রেডিও টেলিও হতে
বিকৃত হয়ে ছড়ায়ে চলেছে বিষ বাষ্পের স্্েরাতে,
নর হন্তারা আজিকে হয়েছে শ্রেষ্ঠ ইমানদার
লুণ্ঠনকারী জালিম নিয়েছে দেশের শাসন ভার।
এত সরাসরি, এত মাটিগন্ধা ভাষায় আর কোন কবি যুদ্ধকালীন বাস্তবতা বর্ণনা করেছেন? সবসময়ের সহজ সরল জনসাধারণের জন্য বরং এ কাব্যভাষাই ছিল প্রার্থিত। দুঃখের ঘনঘাটা কবিতায় এনে জসীমউদ্দীন বিশ্ববুকে প্রশ্ন রেখে যানÑ ‘এ নরধমের গ্লানী’ আর কতদিন সহ্য করবে? স্মরণে আনা দরকার একাত্তরে বিশ্বের বড় মোড়লদের অনেকেই ছিল পাকিস্তানিদের পক্ষে; তবুও বাঙালিরা দমিয়ে যায়নি। বৈশ্বিক সহযোাগিতা সর্বোপরি আত্মবিশ্বাস বাঙালিকে দিয়েছিল চূড়ান্ত বিজয়।
কবি-প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন তাঁর মুক্তিযুদ্ধের এক কবিতায় মেয়েকে বড় হতে নিষেধ করেছিলেন তৎসময়ের ভয়াবহতা দেখে। জসীমউদ্দীন নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন তাঁর কবিতায় কন্যাকে রাখার জন্যে: ‘তোমারে কন্যা কোথায় লুকাব, কোথা পাব ছায়া তরু/ চারিদিক শুধু তৃণ লতাহীন তপ্ত বালুর মরু।’
যুদ্ধের সব নিয়ম নিয়ম ভঙ্গ করে খানসেনারা নারি-শিশুকে হত্যা তো করছেই ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে বাংলার অসংখ্য মা-বোনের। তাদের তীক্ষè লোলুপ দ”ষ্টি থেকে বাদ যায়নি মা কিংবা মেয়ে; স্বাভাবিক বা প্রতিবন্ধি বোন। কবি তো বরাবরই আশাবাদি একটা সত্ত্বা লালন করেন, জসীমউদ্দীনও দুর্দিনে বর মাগেন: ‘যে বরে তোমরা হবে নির্ভয়, ঐ দুটি পদতল/ দস্যুর খুনে হবে রঞ্জিত অলক্ত উজ্জ্বল।’ বলাবাহুল্য সে বর বঙ্গবন্ধু এবং বরের নির্দেশনা ছিল সাত মার্চের ভাষণ। আর স্বাধীনচেতা বাঙালিরা নিজেদের মাঝেই খুঁজে পেয়েছিল তাবৎ রণশক্তির আধার। সময় ছিল প্রতিকূল। পাকিদের হিং¯্রতা সহ্য করতে হবে কিš’ বলা যাবে না! তবুও থেমে থাকেনি কলম। জসীমউদ্দীনের ‘কি কহিব আর’ কবিতায় যেমন দেখি: ‘এসব কাহিনী কহিবার মানা লিখিবার মানা হায়/ কবির কলম বড় অবাধ্য না লিখে বাঁচা যে দায়।’
মাটিতে কপাল ঠুকে বেউপায় হয়ে তবুও কবির আশাবাদি চোখ দেখে বিজয়ের স্বপ্ন এবং কলম চালিয়ে যায় তার বিদ্রোহ। মায়াঘেরা সে গ্রাম যেন কঙ্কাল; একাত্তুরের মে মাসে ‘দ” গ্রাম’ শিরোনামে চিরকাল গ্রামকে ভালোবেসে আসা কবি লেখেন: ‘সারা গাঁওখানি দ” শ্মশান দমকা হাওয়ার ঘায়/ দীর্ঘ নিশ্বাস আকাশে-পাতালে ভস্ম উড়িয়া যায়।’
মানুষের রক্তে-খুনে ছায়া-সুশিতল গ্রামগুলো আপন সৌন্দর্য হারিয়ে যেন ম”তপ্রায় মায়া। ঘন হওয়া দীর্ঘশ্বাস দূরে অনেক দূরে উড়ে যায় ছাই হয়ে। এটাও নির্মম সত্য মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু সম্প্রদায়েরই বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল। পাকিস্তানিরা চেতনাগতভাবে সাম্প্রদায়িক, ফলে আবহমানকাল ধরে বসবাসরত এদেশের অনেক গীতাদের চোখে নেমে এসেছিল অমানিশা। ‘গীতারা কোথায় যাবে?’ কবিতায় কবি যেমন লেখেনÑ
গীতারা কোথায় যাবে?
কোথায় মমতা কোথা ¯েœহ আর মায়া
কাহারা আজিকে এদেশ হইতে মুছিয়া ফেলিছে
সকল শীতল ছায়া।
কবি সবসময়েরই মানবতাবাদি মানুষ এবং তাঁর কবিতায় মিলনের মিহি একটা সুর বহমান থাকে প্রশান্তির বার্তা হয়ে। স্বাভাবিকভাবে ‘গীতাদের’ অসহায়ত্ব কবিকে বিষণœ করে- কবিতার শরীর জুড়ে তাই ব্যক্ত হয় বারবার। কবির নির্মোহ দ”ষ্টি থেকে বাদ যায়নি রক্ত¯œাত সেদিনের বাস্তমুখি দ”শ্যপট। ‘মুক্তিযোদ্ধা’ কবিতার শরীর জুড়ে পশ্চিমাদের পশুতুল্য লেবাসের কথা বিধ”ত হয় বিশ্বস্ত কলমে; সে সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের শৌর্য-বির্য, দেশমাতৃকার প্রতি অপরিসীম মমতা ফুটে ওঠে। দীপ্ত কণ্ঠে কবি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘোষণা করেন- যতদিন একটি খানসেনা এ দেশে থাকবে ততদিন থামবে না মুক্তিযোদ্ধাদের রণযাত্রা। কবিতার শেষেই দেখি কবির কল্পনায় আবারো স্বদেশ ভরে ওঠে আশার চাদরেÑ
মাঠগুলি পুনঃ ফসলে ফসলে পরিয়ে রঙিন বেশ
লক্ষèীর ঝাঁপি গড়ায়ে ছড়ায়ে ভরিয়ে সকল দেশ
মায়ের ছেলেরা হবে নির্ভয় সুখ হাসি ভরা ঘরে
দস্যুবিহীন এদেশ আবার শোভিবে সুষমা ভরে।
কবির দূরদর্শিতা দেশের ভবিষ্যৎকে অনেক আগেই চিহ্নিত করে এবং আজকের বাংলাদেশ তাঁর সে ভাবনার সার্থকতাই প্রমাণ করে বিশ্ববাসির চোখে। আর স্মরণ করে দেন দেশ-সাধনার কথা দেশের মঙ্গলকামিতার কথা। ‘জাগিয়া তুলিবা আশ’ কবিতায় কবি যেমন বলেন: ‘যেথায় স্বর্গ ¤্রয়িমান হয় আপনাওে তুলনিয়া/ সে দেশের লাগি সাধনা মোদের রহিবে প্রজ্জলিয়া।’
স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত জসীমউদ্দীনের ‘বঙ্গ-বন্ধু’ কবিতাটি বহুল চর্চিত ও প্রকাশিত সঙ্গত কারণেই। কে না জানে, বঙ্গবন্ধুর সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রীতির কথা। তাঁর এ পক্ষপাতিত্বের কারণেই ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলদেশে প্রথম আর্ন্তজাতিক সাহিত্য সম্মেলনে কবি জসীমউদ্দীনকে সভাপতির আসনে বসতে হয়। এবং সাথে রাখেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনকে। ১৬মার্চ ১৯৭১-এ রচিত ‘বঙ্গ-বন্ধু’ কবিতার শুরুতে দেখি ‘মুজিবুর রহমান!/ ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান’। আবার অন্য জায়গায় লেখেন: ‘পীড়িতজনের নিশ্বাস তারে দিয়েছে চলার গতি/ বুলেটে নিহত শহীদেরা তাঁর অঙ্গে দিয়েছে জ্যোতি।’
বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্ব কবিতার চেয়েও মহৎ তবুও মহান শিল্পিরা ধরতে চেষ্টা করেন তাঁর স্বরূপ। এক্ষেত্রে জসীমউদদীন অন্যান্য কবিদের চেয়ে প”থক এবং সার্থকপ্রয়াসি। হয়তো বঙ্গবন্ধুর সাথে অন্তরঙ্গ মেলামেশাই তাঁকে সহযোগিতা করেন এ কবিতা শরীর নিমার্ণে। আমরা আশা করবো ‘বঙ্গ-বন্ধু’ কবিতার সমান্তরালে পঠিত এবং চর্চা হবে জসীমউদদীনের অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতাগুলো। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা কখনো পুরনো হয় না; তেমনি ধুলোমাখা হতে পারে না রক্তের আঁচড়ে লেখা সাহিত্যকর্ম।
গ্রামীণ সংস্কৃতি এখনো বাংলাদেশকে তার অস্তিত্বসমেত টিকে থাকতে অক্সিজেন সরবরাহ করে যা”েছ। আকাশ-সংস্কৃতির করাল গ্রাস শহরকে গ্রাস করলেও নাগরিক যন্ত্রণায় শহুরেরা পালিত মানবতা বিসর্জন দিলেও গ্রামীণ চাষাভুসারা ধৈর্য্যরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আবহমান বাংলার রূপ-রঙ, দুঃখগাথা, আনন্দের ফল্গুধারা যথাযথভাবে আত্ম¯’ করতে হলে আমাদেও অবশ্য জসীমউদ্দীন পাঠ জরুরি। কবি জসীমউদ্দীনকে অনাধুনিক-গোঁয়ো বলে যতই আমরা দূরে রাখার অপপ্রয়াস পাই না কেন তবুও বাংলাসাহিত্যে তাঁর ¯’ায়ী অব¯’ান কালই লিপিবদ্ধ করেছে। আবদুল মান্নান সৈয়দ যেমন বলেন, ‘মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ যে আধুনিকতার আস্বাদ এনেছিলেন, তাঁদের পরে এসে পুরনো বাংলা কবিতার সঙ্গে মিলিয়ে-মিশিয়ে জসীমউদ্দীন আর এক আধুনিকতার জন্ম দিলেন।’
শেকড় অস্বীকার করে যেমন দাঁড়িয়ে থাকা যায় না তেমনি জসীমউদদীনকে অস্বীকার করলে আত্মসংহারের নামান্তরই হবে। আমরা আশা করি জসীমউদ্দীন-এর স”জনরাজ্যে অন্যান্য রতেœর মতো মুক্তিযুদ্ধনির্ভর লেখাগুলো সমান গুরুত্ব দিয়ে পঠিত হলে আমাদের প্রজন্ম জসীমউদ্দীনকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোাগ যেমন পাবে, তেমনি ডুব দিতে পারবে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভয়াবহতার অন্তরালে।