জাগতিক মঙ্গল কামনায় নগরীতে কুমারী পূজা পালিত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর ত্রিনয়নী মন্ডপে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়-সোনার দেশ

মহাঅষ্টমী ছিলো গতকাল বৃহস্পতিবার। এ দিনো মূল আকর্ষণ ছিলো কুমারী পূজা। এবারের কুমারী পূজায় জগৎ ও সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। মহাঅষ্টমীতে নগরীর মন্দির আর পূজামণ্ডপে ঢাকের বোল, মন্ত্র ও চণ্ডিপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে কেঁপে উঠেছে। একইসঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা।
নগরীর ত্রিনয়নী সংঘে গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ কুমারি পূজা। প্রতিবারই এ পূজায় একজন কুমারী মেয়েকে মঞ্চে এনে পূজাপর্ব চলে। এবার পূজায় ‘কুমারী মা’ হয় ঐন্দ্রিলা সরকার।
এদিন সকাল ১০টায় মণ্ডপে আসেন ‘কুমারী মা’ ঐন্দ্রিলা। লাল টুকটুকে বেনারসি পড়ে আসা ‘কুমারী মা’র চোখে-মুখে ছিল কিছুটা ভীতি আর আনন্দ। ‘কুমারী মা’ আসনে আসার পরপরই শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শুরুতেই গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘কুমারী মা’কে পরিপূর্ণ শুদ্ধ করে তোলা হয়। এরপর ‘কুমারী মা’র চরণযুগল ধুয়ে তাকে বিশেষ অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। অর্ঘ্যের শঙ্খপাত্র সাজানো হয়েছিল গঙ্গাজল, বেলপাতা, আতপ চাল, চন্দন, পুষ্প ও দুর্বাঘাস দিয়ে।
অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। পূজাশেষে প্রধান পূজারি দেবীর আরতি দেন এবং তাকে প্রণাম করেন। সবশেষে পূজার মন্ত্রপাঠ করে ভক্তদের মাঝে চরণামৃত বিতরণের মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, ভক্তদের ঢল। চণ্ডীপাঠ, উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর, ঢাকের বোল-এ মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। মণ্ডপগুলোতে ছিল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। নতুন পোশাক পরে বাঁধভাঙা আনন্দে নানা বয়সি নারী-পুরুষ দেখা গেছে পূজামণ্ডপগুলোতে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ