জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সাহস ও সম্ভাবনার মিশেল

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের খবর দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ ও প্রচার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়।
প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, মুজিববর্ষ উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব নয়, এই উদযাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া। সত্যিকার অর্থেই তো বঙ্গবন্ধু জাতির মধ্যে বিলীন- ক্রমাগত সঞ্চারিত হচ্ছে। তিনি আলোকবর্তিকা হাতে সাহস ও পথ দেখাচ্ছেন। জাতিকে তিনি জাগাচ্ছেন, উদ্দীপ্ত করছেন-যা পিতার আরাধ্য ধ্যান-জ্ঞান- বাসনা। তাঁকে বাদ দিয়ে যে পথ চলতে অক্ষম সেটা বোঝা গেছে। যারা সে চেষ্টা করেছে, তাঁকে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে- নিশ্চয় তারা পরাজিত হয়েছে। জাতির সত্তায় যা কিছু নিজের, সাবলীল ও সুন্দর, জীবন ও স্বপ্নের, কর্ম ও চঞ্চলতারÑ তার সবকিছুতেই বঙ্গবন্ধু এমন নিবিষ্ট মিশে আছেন- তাঁকে যে আলাদা করা যায় না। আর আলাদা করতে গেলে বাঙালি আর জাতি হিসেবে টিকে থাকে না। বোধ করি বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রেই এই দাবি একমাত্র। নতুন প্রজন্মের কাছে, বিশ্বের কাছে বঙ্গবন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে মুজিববর্ষ নিঃসন্দেহে গুরুত্বর্প ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় সেই তাৎপর্যের বিষয় ব্যক্ত হয়েছে যে, ‘জাতির জীবনে নতুন জীবনী শক্তি সঞ্চারিত করবে।’
বিরোধীরা যা-ই বলুক না কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যাশিম্যাটিক নেতৃত্বে দেশ যে আর্থ-সামাজিকভাবে বেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওরা দোষারোপের জন্যই- কথার কথা বলছেন। কিন্তু বিশ্ব সংস্থাগুলো বাংলাদেশে নতুন দিনের কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধুর পর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব শেখ হাসিনারই। তাঁর নেতৃত্ব দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা ও দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, কর্মনিষ্ঠতা এবং লক্ষ্য হাসিলের একাগ্রতায়।
জাতির উদ্দেশ্যে তিনিই তো বলতে পরেন, ‘জীবনের একমাত্র লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার ওপর ভরসা রাখুন । আমি অপনাদেরই একজন থাকতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী এগার বছরে তাঁর এই কথার যথার্থ প্রমাণ রেখেছেন। যে কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনো আকাশচুম্বি। একজন শেখ হাসিনা সরকার প্রধান হিসেবে থাকা তাঁর জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন দেশ ও জনগণের জন্য। তাঁকে ছাড়া নেতৃত্বের অন্য আধার এখনো কল্পনাই করা যাচ্ছে না।
নিজ দেহে নিজেই অস্ত্র প্রচারের সাহস বঙ্গবন্ধু কন্যাই দেখাতে পারছেন। তাঁর দল আওয়ামী লীগের মধ্যেকার দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। আইনের শাসনের জন্য যা অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর সেই অঙ্গীকার আরো দৃঢ়রূপে প্রকাশ পেয়েছে। আমরা সরকারের দ্বিতীয়বর্ষ পূর্তিতে সাফল্যের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারবোÑ এ বিশ্বাস রাখাই যায়- যখন জাতির নেতৃত্বে শেখ হাসিনা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ