জাতির কাছে নাসিক নির্বাচন নির্বাচনের প্রাতিষ্ঠানিকতার দাবি রাখলো

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন নিয়ে প্রতিপক্ষের তিব্র সমালোচনা আছে। ত্রুটি-বিচ্যুতির যতটুকু হয় দেশের মানুষের কাছে সেটা অত্যন্ত ফুিলয়ে-ফাপিয়ে সত্যের মত করে সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করা হয়। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমাগতভাবে নির্বাচন কমিশনকে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখাতেই বেশি স্বচ্ছন্দ্যবোধ করে। নির্বাচনি ব্যবস্থার এই নিম্নমুখিনতার দায় কোনো দলই নিতে চায় না। ক্ষমতাসীন যারা তাদের ওপরই সব কিছু বর্তানো হয়। ফলে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনর নির্বাচন নির্বাচনের বিতর্ক-অচলায়তন ভাঙ্গার স্পর্ধা দেখিয়েছে। যিনি নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনি ব্যবস্থার কট্টর সমালোচক সেই নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ব্যতিক্রমি ভাষায় নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। শুধু তিনি নন সার্বিক নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সবপক্ষই। নাসিক নির্বাচনে মূল প্রতিপক্ষ অ্যাডভোকেট তৈমুর রহমানও নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন। বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। নির্বাচন যে পরস্পর সৌহার্দের একটি অনুসঙ্গ সেটাই এই নির্বাচনের পর দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। বিজয়ী প্রার্থী আইভী রহমান নির্বাচনের পরদিন মঙ্গলবার সকালেই পৌঁছে যান জনাব তৈমুর রহমানের বাসায়। সঙ্গে মিষ্টি ও ফুল। অ্যাডভোকেট তৈমুর রহমান পিতৃস্নেহে আইভী রহমানকে বুকে টেনে নেন এবং তাকে আশির্বাদ করেন। কোনো সন্দেহ নেই এই দৃশ্য দেশের মানুষের বুক আনন্দে ভরিয়ে তুলেছে। তাদের আজন্ম প্রতাশাও তাই- নির্বাচন হবে এমনিই সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি-ভরা।
নির্বাচন কমিশনের বর্তমান মেয়াদ শেষের পথে। ইতোমধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। শেষ দিনে আওয়ামীগ তাদের চার দফা পেশ করেছে। সরকার নির্বাচনি আইনের দিকেও এগোচ্ছে।
নাসিক নির্বাচন সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তাঁদের মেয়াদকালের সর্বোত্তম নির্বাচন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এও বলেছেন, এটি ছিল আমার অনেক প্রত্যাশার স্থান। কারণ, আমি ইতোপূর্বে বলেছি যার শেষ ভালো, তার সব ভালো। নাসিক নির্বাচনে আমি ৪টি কেন্দ্রের ১৪টি বুথ পরিদর্শন করেছি। এই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য কোনা সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেনি। বিগত ৫ বছরে যতগুলো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়েছে, আমার বিবেচনায় প্রথম কুসিক নির্বাচন ও সর্বশেষ নাসিক নির্বাচন সর্বোত্তম।
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের এই প্রত্যাশা ও ফল দেশের মানুষকেও আশান্বিত করেছে। গণতন্ত্র অনুশীলনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় রাজনীতিকে এই ধারণার সাথে সংহতি পোষণ করতেই হবে। দোষারোপের অবস্থান থেকে সরে এসে মানুষের কাতারে অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। কেননা নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দায় এড়াতে পারবে না। স্বাধীনতার স্বপক্ষ ধারণায় রাজনীতিতে ঐকমত্য হতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে দৃর্বৃত্তায়িত বলয়ের বাইরে এসে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। কারো কাছে বিষয়টি একপেশে মনে হতেই পারে কিন্তু এটিই পরম বাস্তবতা- এর অন্যথা চলে না। কারণ দেশটি সবার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ