জাতির গর্ব পদ্মাসেতুর উদ্বোধন আজ সাবাশ বাংলাদেশ!

আপডেট: জুন ২৫, ২০২২, ১:২২ পূর্বাহ্ণ

পদ্মা সেতু স্বপ্ন নয়, জ্বলজ্বল করা বাস্তববতা। আজ ২৫ জুন ২০২২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ণাঢ্য- জাকজমক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। তাঁর উদ্দীপ্ত-গর্বিত ঘোষণা শোনার জন্য অপেক্ষায় আছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পূর্বেই সারা দেশে জুড়ে মহোৎসবের সূচনা হয়েছে। কেননা পদ্মা সেতুর ঘোষাণার মধ্য বাংলাদেশ সক্ষমতার এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। পদ্মাসেতু তৈরির আকাক্সক্ষা থেকে নির্মাণ সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পরতে পরতে জাতির স্পর্ধা, সাহস ও স্বনির্ভর হওয়ার নতুন কাহিনি তৈরি হয়েছে যা বিশ্বব্যাপি উদ্ভাসিত হচ্ছে। বিশ্বও স্বীকার করে নিয়েছে- বাংলাদেশ-বাঙালি চাইলেই সবকিছু করতে পারে।
পদ্মাসেতু-স্বপ্ন সফল করতে ছিল চ্যালেঞ্জ, ছিল সাহসের দৃপ্ত কঠিন বুনন। আত্মমর্যাদায়, আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে ওঠার জাতির এ এক গৌরবময় ঐতিহাসিক উত্থান। এই উত্থান পরনির্ভরতার ভয়-আড়ষ্টতা কাটিয়ে জাতির নিজপায়ে দাঁড়ানোর আত্মপ্রত্যয়ী নির্ভরতা। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে আজ। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকায় নির্মিত এ সেতুতে যান চলাচাল শুরুর অপেক্ষায় পুরো দেশ।
এই স্বপ্ন, এই সাহস চ্যালেঞ্জের পথে নির্ভিক অভিযাত্রায় জাতিকে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন, সফল হয়েছেন, স্বপ্নকে জাতির মধ্যে সঞ্চারিত করে বিশ্ব ধৃষ্ঠতাকে ভ্রুকুটি দেখিয়ে সফলতার জয়গান শুনিয়ে চলেছেন সেই মহান বীর দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতির অহংকার উদাহরণ পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। শুরু হবে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়। জাতির মহান এই যুগসন্ধিকালে পদ্মাসেতুর নির্মাণ ও উদ্বোধনকালের সাক্ষী হয়ে দেশবাসী মহান গৌরবের অংশিদার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জাতির সক্ষমতার আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে।’ তাঁর এই আত্মবিশ্বাসের শক্তি ও অর্জন জাতির মধ্যে সঞ্চার করতে পেরেছেন। তিনি বলতে পেরেছেন, দেশের মানুষের সমর্থন ছাড়া এতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল না।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ আনায় কোনো বোর্ড মিটিং না করেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। যদিও পরে কানাডার আদালতে ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণ হয়। অথচ ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক কেবল বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল, ‘তাদের কাছে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে যে পদ্মা বহুমুখি সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র ঘটেছে। বাংলাদেশ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, এসএনসি লাভালিন এবং সরকারের বাইরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত।’ পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক একের পর এক ভুল পদক্ষেপ নিচ্ছিল। বিশ্ব ব্যাংকের মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ভাবমূর্তি এতো জঘন্যভাবে প্রদর্শন করেছে- তা শুধুই দৃষ্টান্ত হয়েই থাকলো। যুগেযুগে বিভিন্ন দেশ এই উদাহরণ টেনেই বিশ্ব ব্যাংককে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। যদিও বিশ্বব্যাংক পরবর্তীকালে পদ্মা সেতুতে অর্থ না জোগানো ভুল হয়েছে- এটা স্বীকার করে নিয়েছে। পদ্মাসেতু নিয়ে দেশের কতিপয় রাজনৈতিক দল ও কতিপয় ব্যক্তির বিরোধিতা ও বিশ্বব্যাংকের সাথে ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ার কলঙ্ক কথাও দেশের মানুষের মধ্যে যুগে যুগে ঘৃণার উদ্রেক করবে।
২৫ জুন ২০২২ দিনটি নিশ্চয় বাঙালি জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিনের স্মারক হয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। রোববার (২৬ জুন) থেকে পদ্মাসেতু দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলা তো বটেই সারা দেশই বর্দ্ধনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আওতায় আসবে। মানুষের সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। বাংলাদেশ ২০৪১ সালের উন্নত দেশের সোপান শীর্ষে উঠতে উজ্জীবিত হবে, সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হবে। সাবাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবাশ বাংলাদেশ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ