জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা বাংলা সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর দাবি শাণিত হল

আপডেট: জুন ১৪, ২০২২, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের কার্যক্রম সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য বাংলায় সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সংস্থার সাধারণ সভার ৭৬তম অধিবেশনে পাশ হয়েছে বহুভাষা ব্যবহারের এ প্রস্তাব। সেখানে হিন্দি ও উর্দুর সাথে বাংলাকেও সংযোজন করা হয়েছে। শুক্রবার ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী জাতিসংঘে যে ৬টি ভাষা স্বীকৃতি পেয়েছে সরকারি ভাষা হিসেবে, তার মধ্যে রয়েছে আরবি, চিনা, ইংরেজি, ফরাসি, রুশ ও স্প্যানিশ। কিন্তু এরই পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে জাতিসংঘের তথ্য পৌঁছে দিতে বহুভাষাবাদের সাহায্যও নেয়া হবে। আর সেই কারণেই এই ভাষাগুলি ব্যবহারের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্ত বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বাংলা যে প্রকৃত অর্থেই একটি সমৃদ্ধ ভাষা- এ তারই স্বীকৃতি। এর ফলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল যাবতীয় কার্যক্রমের তথ্য উপাত্ত বাংলা ভাষায় জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে সংযুক্ত হবে।
এর আগে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি মতে বাংলা ভাষা পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি ভাষা। আবার ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতেই বাঙালি জাতির বাংলা ভাষার আন্দোলন ও আত্মাহুতির দিন- ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় মহিমান্বিত হয়েছে। এই স্বীকৃতির ফলে পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাভাষি মানুষ ও তাদের ভাষা মর্যাদা লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবেসের কারণেই এখন পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাকে সুরক্ষা দেয়া, ভাষা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই বাঙালির ভাষার আন্দোলন ও বাংলা ভাষা পৃথিবী জুড়েই গৌরবময় অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে।
খুব স্বাভাবিকভাবেই বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা। গৌরবময় বাংলা ভাষা স্বদেশে চর্চার ক্ষেত্রে কোন পর্যায়ে রয়েছে। সেটা বিবেচনায় নিলে অনেকটাই হতাশ হতে হয়। সর্বস্তরে বাংলাভাষা চালু করা সম্ভব হয় নি স্বাধীনতার ৫১ বছরেও। এটা জাতি হিসেবে আমাদের দৈন্যতাও বটে।
জাতিসংঘের এই স্বীকৃতি এই দায়িত্বের বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, বাংলা ভাষা জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে চালুর দাবি শাণিত হল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ