জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন গৃহীত রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের প্রত্যাশা

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২১, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সদস্য সমাধানের ক্ষেত্রে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি আরো একটু স্পষ্ট করলেন। যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্যও বটে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এ বছরের জুলাইতে প্রথমবারের মতো জেনেভাতে সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলেশন গৃহীত হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আরেকটি রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হল। ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘে ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক রেজুলেশনটি গৃহীত হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে, জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন জোট ও গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত যোগাযোগের ফলে এই সম্মতি আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
রেজুলেশনটি যৌথভাবে উত্থাপন করে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এবারের রেজুলেশনটিতে ১০৭টি দেশ সহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। যা ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসি ছাড়াও রেজুলেশনটিতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ সমর্থন এবং সহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। এটিকে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ঐকমত্যেরই প্রতিফলন বলা হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যে জানা যায়, জুলাইতে মিয়ানমার বিষয়ক একটি রেজুলেশন জাতিসংঘে প্রস্তাব করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং যা চেয়েছিল সেটি না থাকায় ওই রেজুলেশনে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থাকে, যা ভালো চোখে দেখেনি ইইউসহ অনেকে। এ কারণে এই রেজুলেশনে ইইউকে পাশে পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পরে ইইউ বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি এটি কো-স্পনসর করতে রাজি হয়।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল-প্রথম থেকেই যেকোনো ধরনের রোহিঙ্গা রেজুলেশনে বেলারুশ, চিন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ নেতিবাচক ভোট দিয়েছে। এবারে তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা ভোট আহ্বান না করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে রেজুলেশনটি ভোটে দেয়ার সময়ে তারা সবাই নীরব ছিল।
তৃতীয় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জাতিসংঘের আমলাতন্ত্র। এবারের রোহিঙ্গা রেজুলেশনে জাতিসংঘের আমলাদের কার্যক্রমকে একটি দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এটির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ ছিল।
এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোটেও সহজ সমাধান ছিল না। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তাদের কূটনৈতিক সাফল্য দেখাতে পেরেছে। এর ফলে বাংলাদেশের কূটনীতির দক্ষতা ও সক্ষমতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এই সাফল্যের পথ ধরেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে এ প্রত্যাশা করাই যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ