জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক


জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় রোববার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কেআব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
গত শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বিকালে ফিনল্যান্ডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুদিন যাত্রা বিরতি শেষে রোববার নিউ ইয়র্কে এলেন। এই সফরে তিনি নিউ ইয়র্কে থাকবেন লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে।
মহামারীর মধ্যে ১৯ মাস পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রæয়ারিতে তিনি ইতালি সফরে গিয়েছিলেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গতবছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন বসেছিল ভার্চুয়ালি। এ বছর সশরীরে সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন বিশ্ব নেতারা।
আগামী ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহŸানে সোমবার জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।
পরে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের উত্তরের লনের ইউএন গার্ডেনে একটি গাছ লাগাবেন এবং সেখানে একটি বেঞ্চ উৎসর্গ করবেন জাতির পিতার সম্মানে।
সেদিন প্রধানমন্ত্রী ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ শীর্ষক গোলটেবিলেও যোগ দেবেন।
২২ সেপ্টেম্বর ‘ডারবান ডিক্লারেশন অ্যান্ড প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন’ গ্রহণের বিংশতম বার্ষিকী উপলক্ষে সাধারণ পরিষদের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া তিনি ‘হোয়াইট হাউস বৈশ্বিক কোভিড-১৯ শীর্ষ সম্মেলন: মহামারীর সমাপ্তি এবং আরও ভালো অবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবেন।
সেদিন বিকালে শেখ হাসিনা ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট: একটি টেকসই সমাধানের জন্য করণীয়’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন। সেখানে তার পূর্বে-রেকর্ড করা বক্তৃতা দেখানো হবে।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সুইডিশ মিশন আয়োজিত ‘জাতিসংঘের সাধারণ কর্মসূচি: সমতা ও অন্তর্ভুক্তি অর্জনের পদক্ষেপ’ শীর্ষক লিডারস নেটওয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সভাপতিত্বে সেদিন ‘ফুড সিস্টেমস সামিট অ্যাজ পার্ট অব দ্য ডিকেড অব অ্যাকশন টু অ্যাচিভ দ্য সাসটেইবল ডেভেলপমেন্ট গোল বাই ২০৩০’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভিডিও বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন, বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি কিউসি, নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ এবং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট এনগুয়েন জুয়ান ফাইকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেলের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হবে।
জাতিসংঘ অধিবেশন এবং নিউ ইয়র্কে অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি সফরের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। হেলসিংকিতে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ