জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান

আপডেট: জুন ২৬, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

একশোএকতম জন্মবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি


এমন কোনো কোনো মানুষের আগমন আছে যা পৃথিবীকে উদ্বেলিত করে তোলে। তার আগমন ধ্বনিই জানান দেয়, মানবকল্যাণের মূর্তবার্তা। যার পরশে সোঁদা-মাটি বিমোহিত হয়ে উঠে। মুখরিত হয় তার বাণী, মুক্তির অমূল্য বারতায়। জাতির ভালে জন্ম নেয় স্বাধীনতার একটা লাল সূর্য। এমন আগমন, এমন জনম- যেন ঘুরে ঘুরে আসে, বাংলার ঘরে ঘরে।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামারুজ্জামান-এর আজ ১০১তম জন্মবার্ষিকী। বর্তমান নাটোর জেলার অন্তর্গত বাগাতিপাড়ার মালঞ্চি রেলস্টেশন সংলগ্ন নুরপুর গ্রামে মামার বাড়িতে ১৯২৩ সালের ২৬ জুন এএইচএম কামারুজ্জামান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ছিলো রাজশাহী জেলার কাদিরগঞ্জ মহল্লায়। তাঁর পুরো নাম হলো আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। ডাক নাম হেনা। রাজশাহীর মানুষের প্রিয় ‘হেনা ভাই’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর পর তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের একনিষ্ঠ সহচর যে চার জাতীয় নেতার নাম ইতিহাসে সগৌরবে স্থান পেয়েছে তাঁদের মধ্যে তিনি একজন। এই চার নেতা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাঁর স্বাধীনতা অর্জনের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ও স্থির লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা আর সময়োপযোগী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে আপামর জনতাকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনকে সম্ভব করে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন।

এই জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামারুজ্জামান। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ১৯৪০ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর। তার দুবছর পর ১৯৪২ সালে তিনি নিখিল বঙ্গীয় ছাত্রলীগের রাজশাহী জেলা শাখার সম্পাদক পদ লাভ করেন। আর বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সরকার নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালি নিধনে বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায়।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন গঠিত অস্থায়ী সরকারের স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন। তিনি একজন নির্লোভ সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে সারা দেশে সুপরিচিত ছিলেন। গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম এই রাজনৈতিক নেতা আমাদের রাজশাহীর গর্ব, দেশের গর্ব। মহান এই নেতার জন্মদিনে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ