জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সরকার প্রণীত ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত সরকারি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী সংবাদ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়ন দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রবীণ ব্যক্তিদের সার্বিক কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সাল হতে বয়স্ক ভাতা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এ ছাড়াও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থা সহজিকরণ ও সুবিধাদি বৃদ্ধি করেছে। পরবর্তীতে “মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনার” প্রতি বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় সমর্থন ব্যক্ত করে প্রবীণদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি মাথায় রেখে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় “জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা” অনুমোদন দেয়। পরের বছর ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বাংলাদেশের ষাট বছর বা তদুর্ধ বয়সী নাগরিকদের ‘সিনিয়র সিটিজেন’ (জ্যেষ্ঠ নাগরিক) হিসেবে ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৪ জুন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। তারা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগকে একাধিকবার চিঠি দেয়। কিন্তু তাদের অনেকের কাছ থেকে কোনো আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারি। অগ্রগতির কোনো খবরও আমাদের জানা নেই।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এরপর সুদীর্ঘ ৮ বছর অতিক্রান্ত হতে চললো, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো সংবাদ আমরা জানতে পারছি না। অজ্ঞাত কারণে মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগের কোনো কার্যক্রমই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই নীরবতায় আমরা গভীরভাগে হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। এতে সরকারের প্রতি জনগণের ভরসার জায়গাটিও দুর্বল হচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বাস্তবায়নের বিষয়টি কারা ঝুলিয়ে রেখে প্রবীণদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং তাদের প্রতি চরম অন্যায় ও অবহেলা করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশ সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর রেশ ধরেই দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের প্রবীণদের অধিকার সমুন্নত রাখা এবং তাঁদের আর্থ-সামাজিক সম্মান ও সার্বিক কল্যাণ সাধণের উদ্দেশ্যে জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩’ অনুমোদন দেন এবং পরবর্তীতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এখন শুধু বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। পরিশেষে আমরা বলতে চাই, “জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা যেন আর কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।

লিখিত বক্তেব্যে আরও বলা হয়, প্রবীণদের নীতিমালাটি যেন নীতিমালার মালা না হয়ে কাজে রূপ পায়। মহামান্য রাষ্ট্রপতিও একজন প্রবীণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণা। তাঁরা প্রবীণদের দুঃখ-কষ্ট হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেন। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবীণবান্ধব হয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তাই আমাদের দাবি, সরকারের জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে বিশেষ কমিশন/টাস্কফোর্স গঠন করে সরকারি কর্মপরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করে প্রবীণদের মর্যাদ বৃদ্ধি কেরতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য আহ্বায়ক প্রফেসর আব্দুস সালাম, সচিব একেএম খাদেমুল ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার ও কাজী খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ