জাতীয় ফুটবল দলে বাগমারার মানিক

আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২০, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক


স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন রাজশাহীর চার কৃতী সন্তান। এরা হলেন ফিরোজ কবীর, সাইদুল ইসলাম সাইদুর নেহাল ও পাভেল। এদের উত্তরসূরি হিসাবে গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ছেলে মানিক হোসেন মোল্লা।
বাফুফের কোচ ও রাজশাহী ছেলে মাহমুদ আলম বাবু জানান, ফিরোজ কবির স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ প্রথম জাতীয় ফুটবল দলে ডাক পেয়েছিলেন। এরপর ৯০এর দশকে গোলরক্ষক সাইদুল ইসলাম সাইদুর ও বিকেএসপিতে অধ্যায়নের সময় জাতীয় দলে ডাক পান রাজশাহীর আরেক ছেলে পাভেল। সে-ও ছয়-সাত বছর আগে জাতীয় দলে খেলেছিলেন। এরপর ১৯১৬ সালে আরেক গোলরক্ষক নেহাল খেলেছেন জাতীয় ফুটবল দলে। নেহালের পর কোন খেলোয়াড় রাজশাহীর মূল জাতীয় দলে সংযোগ পায়নি। দীর্ঘদিন পর আবার জাতীয় ফুটবল দলে রাজশাহীর ছেলে একজন ফুটবল খেলোয়াড় ও কোচ হিসাবে ভাবতেই ভালো লাগছে। তার জন্য শুভ কামনা রইলো।
জাতীয় দলের সাবেক ও রাজশাহী ফুটবল ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষক সাইদুল ইসলাম সাইদুর বলেন, নেহাল আমার ক্যাম্পের খেলোয়াড় ছিল। মানিকও আমার ক্যাম্পের ছেলে। সে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর আমার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে ঢাকায় রওনা হলো। তার জন্য শুভ কামনা রইলো।
এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, এই তো গত অক্টোবরের কথা। চট্টগ্রামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলে মানিকের পারফরম্যান্সে দেখে তখনই বলে দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক, ‘দেখবেন এই ছেলেটি অচিরেই জাতীয় দলে জায়গা করে নেবে। এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সে।’ শেখ কামাল কাপের পর ঘরোয়া ফুটবলে ফেডারেশন কাপেও দুর্দান্ত খেলেছেন মানিক। এতেই চোখে পড়েছেন জাতীয় দলের কোচ জেমি ডের।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য ঘোষিত ২৩ সদস্যের বাংলাদেশ দলে জায়গা হয়েছে মানিকের। এখন তার সামনে একাদশে খেলাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
গতকাল সোমবার রাজশাহীর বাগমারা থেকে ঢাকায় আসছিলেন মানিক হোসেন মোল্লা। যাত্রাপথেই পেয়েছেন সুখবরটি। ঢাকায় এসে চট্টগ্রাম আবাহনীর ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এখন পথ বদলে যোগ দিতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। হঠাৎ জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়ে মানিক নিজেই অবাক, ‘আসলে এত তাড়াতাড়ি জাতীয় দলে ডাক পাবো ভাবিনি। যখন খবরটি শুনতে পেলাম, নিজের কাছেই অবাক লেগেছে।’
এর জন্য অবশ্য কোচ মারুফুলক হককে কৃতিত্ব দিচ্ছেন মানিক, ‘মারুফ স্যার আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। তিনি না থাকলে হয়তো আমার এই পর্যায়ে এসে খেলা হতো না। ধন্যবাদ তাকেই দিতে হয়।’
রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুলের হয়ে প্রথম খেলেন মানিক। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে আরামবাগ ক্রীড়াসংঘ। এখন ঠিকানা চট্টগ্রাম আবাহনী। মাত্র তিন মৌসুম ঢাকায় খেলতে না খেলতেই জাতীয় দলে!
তবে জাতীয় দলে সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়াটা যে সহজ হবে না, তা বুঝতে পারছেন ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। তার পজিশনে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, মামুনুল ইসলামরা খেলে থাকেন। মানিকের জন্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলাটা যে তাই কঠিন তা মানছেন এই তরুণ ফুটবলার, ‘আমি জানি আমার পজিশনে একাধিক ভালো খেলোয়াড় আছে। অধিনায়ক জামাল ভাইসহ অন্যরা আছে। তবে প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলা। আমিও স্বপ্ন দেখি। একাদশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেবো। তাদের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে চাই।’ মানিকের স্বপ্নটা এখন পূরণ হলেই হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ