জাতীয় শোক দিবসের মাসব্যাপি কর্র্মসূচি তানোরে মহিলা লীগের সমাবেশে নারী উপস্থিতিতে বিপ্লব

আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০১৭, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

ইমরান হুসাইন, তানোর


জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আগস্ট মাস জুড়ে রাজশাহীর তানোরে ১০টির মতো মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশগুলো উপজেলার কলমা ইউপির ডরগাডাঙ্গা হাইস্কুল মাঠ, কামারগাঁ ইউপির পারিশো দূর্গাপুর হাইস্কুল মাঠ, সরনজাই হাইস্কুল মাঠ, তালন্দ ইউপির লালপুর হাইস্কুল মাঠ, চাঁন্দুড়িয়া ইউপির গাগরন্দ প্রাইমারী স্কুল মাঠ, বাঁধাইড় ইউপির জুমারপাড়া স্কুল মাঠ ও পাঁচন্দর ইউপির কোয়েল হাট হাইস্কুল মাঠ ছাড়াও তানোর পৌর এলাকার তালন্দ হাইস্কুল মাঠ, চাপড়া হাইস্কুল মাঠ সহ আকচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশগুলোতে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে নারী ভোটারের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগে বিপ্লব ঘটেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার উদ্যোগে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আয়োজন করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি সোনিয়া সরদার। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সরকারের সাফল্য ও উন্নয়ন তুলে ধরে বক্তব্য দেন রাজশাহী-১ তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। পরে সভা শেষে প্রধান অতিথি নারীদের সুখ দুঃখের কথা ধৈর্য্য ধরে শোনেন।
সমাবেশে উপস্থিত আকলেমা বিবি নামের এক নারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গ্রামের কিছু বড়লোক মানুষের কথা শোনে আগে ধানের শীষে ভোট দেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে ফারুক চৌধুরী সাংসদ নির্বাচিত হবার পর তিনি বিধবাভাতা পাচ্ছেন। তার মেয়ে শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা পায়। সেই সঙ্গে তার শ^াশুরী বয়স্কভাতা পান। গ্রামের রফিকুলের স্ত্রী মাতৃত্বকালিন ভাতা পাচ্ছে। সালেহা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। এছাড়া গ্রামের বেশ কয়েকজন প্রতিমাসে ভিজিডি ছাড়াও ঈদ উৎসবে ভিজিএফ পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সাংসদ ফারুক চৌধুরীর আমলে এতো কিছু পাবার কারণে তার গ্রামের ছোট ও বড় পরিবারের নারীরা মনের টানে আওয়ামী লীগের ভক্ত ও অনুসারী হয়ে পড়েছেন। তাদের না ডাকলেও তারা আওয়ামী লীগের সভা সমাবেশের নিজ ইচ্ছায় উপস্থিত হন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন বলে জানান তিনিসহ আরও অনেকে।
উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি সোনিয়া সরদার জানান, তিনি দায়িত্ব পাবার পর দলীয় বিভিন্ন সভা সমাবেশে নারীদেরকে ঘর থেকে বের করতে হিমশিম খেয়েছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভা সমাবেশের নাম শুনে নারীরা পর্দা পোশাকে পায়ে হেঁটে ও নিজের টাকায় ভ্যানের ভাড়া দিয়ে সভা সমাবেশে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারীদেরকে এখন আর ঘর থেকে বের করতে হিমশিম খেয়ে হয় না। তারা নিজেরাই শতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভা সেমিনারে নারীদের উপস্থিতিতে বিপ্লব ঘটেছে।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও কলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়তার রশিদ ময়না জানান, সরকারের বিধবাভাতা, মাতৃত্বকালিনভাতা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীভাতা ছাড়াও বেকার ভাতাসহ শিক্ষায় উপবৃত্তি এবং ভিজিডি ভিজিএফ গ্রাম ও পাড়া মহল্লার দুস্থ নারীদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে। সরকারের এমন বহুমূখী ভাতার সুফল তারা ভোগ করছেন। ফলে আওয়ামী লীগের প্রতি নারীদের আস্থা বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের সময় তানোর উপজেলার গ্রামগুলোর আনাচে কানাচে রাস্তাঘাট ও ড্রেন কালভার্ট পাকাকরণ করা হয়েছে। গ্রামের মানুষের চলাফেরায় সুগম পথের সৃষ্টি হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ পুরুষ মানুষের পাশাপাশি নারীদের আস্থা অভাবনীয়। তিনি আশা করছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও পাড়া মহল্লায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নৌকার বিজয়ে বিপ্লব ঘটাবে।
এনিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেছেন, প্রতিটি সমাবেশে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার শুধু নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সেই সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিটি সমাবেশে দশ হাজার লোকের সমাগম ঘটে। এসব সমাবেশে কাঙ্গালিভোজের আয়োজন ছিল। কিন্তু অতিথিবৃন্দ পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দিতে গিয়ে সকাল থেকে দুপুর পার হয়ে বিকেল হলেও সমাবেশের নারীরা ধৈর্য্য সহকারে বক্তব্য শুনেছেন। তানোরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুরুষের পাশাপাশি বর্তমানে নারীর অংশগ্রহণে বিপ্লব ঘটেছে। তানোর আওয়ামী লীগে শতঃস্ফুর্ত নারীর অংশগ্রহণ প্রমান করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ