বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

জাতীয় স্লোগান হিসেবে সর্বস্তরে ‘জয় বাংলা’ চায় হাই কোর্ট গণমানুষের স্লোগানে পরিণত হোক

আপডেট: December 12, 2019, 1:15 am

দেশ স্বাধীনের পর আমাদের দেশে জাতীয় ফুল, ফল, পশু-পাখি সবই আছে। কিন্তু বিশে^র অন্য দেশের মতো জাতীয় কোন স্লোগান নেই। এজন্য ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণার আর্জি জানিয়ে দুই বছর আগে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বশির আহমেদ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর হাই কোর্ট রুল জারি করে। ‘জয়বাংলাকে কেন ‘জাতীয় স্লোগান ও মূলমন্ত্র’ হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব এবং শিক্ষা সচিবকে ওই রুলের জবাব দিতে বরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার আগামী বিজয় দিবস থেকে সর্বস্তরে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা উচিৎ বলে অভিমত দিয়েছে হাই কোর্ট।
জয় বাংলা কোনো দলের স্লোগান নয়, কোনো ব্যক্তির স্লোগান নয়, এটা হচ্ছে আমাদের জাতীয় ঐক্য ও প্রেরণার প্রতীক। পৃথিবীর ৬০টি দেশে জাতীয় স্লোগান আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে আমরা আমাদের চেতনার সেই জয় বাংলাকে স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছর পর্যান্ত জাতীয় স্লোগান হিসেবে পাইনি। কারণ এনিয়ে দেশে মত পার্থক্য তৈরি হয়েছিল। কেউ বলেন, ১৯৭০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জয় বাংলা শব্দটি উচ্চারণ করেন রেসকোর্স ময়দানে, ১৯৭০ সালেই প্রথম বারের মত জাতির পিতা দ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বালানো শব্দটি উচ্চারণের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের ধিক্কার জানিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের বক্তব্যেও বঙ্গবন্ধু তার অমর কবিতা শেষ করেছেন ‘জয় বাংলা’ বলে। জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান। এমনকি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়, টেন্ডারবাজি করা হয়, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদেরকে হয়রানি করা হয় ইত্যাদি, প্রভৃতি। অন্যদিকে একই সঙ্গে এ কথা ভুললে চলবে না যে, জয় বাংলার বিকল্প যে স্লোগান ‘জিন্দাবাদ’-এই স্লোগান দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল জাতির পিতাকে এবং তার পরিবারের সকল সদস্যকে, ঢাকার সর্বত্র তার ঘনিষ্ঠজনদের। জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে হত্যা করা হয়েছিল, ওই জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত চার মহান নেতাকে। হত্যা করা হয়েছিল আমাদের মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের। বস্তুতপক্ষে ঐ জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়েই বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আমূল পরিবর্তন করার চক্রান্ত করা হয়েছিল, যেন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ পরিণত হয় এক মিনি পাকিস্তানে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং তাতেই রয়েছে আমাদের উত্তরাধিকার। যা কিছু দুষ্কৃতি, তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে এদেশের মানুষ। আবার গ্রাম-গঞ্জ-জনপদ উত্তাল হয়ে উঠবে এক বিশাল কর্মযজ্ঞে। এগিয়ে যাবে এক আদর্শ বাংলাদেশ সৃষ্টির অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে। আমাদের গণমানুষের নির্বাচিত সরকার জনসাধারণের সঙ্গেই কণ্ঠ মিলিয়ে বজ্রনির্ঘোষে স্লোগান দেবেন ‘জয় বাংলা’। কারণ জয় বাংলা ছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলমন্ত্র। যে স্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, জীবন দিয়েছেন, শহিদ হয়েছেন, সেটাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা। তাই বাংলার সবদিকে ছড়িয়ে পড়বে ওই স্লোগানের প্রতিধ্বনি। আমাদের সবার চাওয়া হোক ‘জয় বাংলা’ গণমানুষের স্লোগানে পরিণত করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ