জাপানের বিপক্ষে কত গোল হজম?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রতিপক্ষকে ১০ গোল দেওয়ারও অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলারদের। ব্যপারটা গর্বেরই। গত বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ‘সি’ গ্রুপের বাছাইয়ে কিরগিজস্তানকে ১০-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দল। শুধু কিরগিজস্তান কেন, সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই দাপট দেখিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। পাঁচ প্রতিপক্ষকে দিয়েছিল সবমিলিয়ে ২৬ গোল, হজম করেছিল মাত্র ২ গোল। পুরুষ জাতীয় দলের ক্রমাগত ব্যর্থতার মাঝে কৃষ্ণা-সানজিদা-স্বপ্নারা হয়ে উঠেছিল দেশের ফুটবলের আশা ভরসার প্রতীক। কিন্তু থাইল্যান্ডের মূল পর্বের লড়াইয়ে নামতেই পাল্টে গেলো চিত্র। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সোমবার উত্তর কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের আগে লড়াইয়ের যে প্রত্যয়, তা স্রেফ হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ প্রবল শক্তিশালী। কিন্তু এক বছরের প্রস্তুতিতেও লজ্জা এড়ানোর জন্য নিজেদের তৈরিই করতে পারে নি বাংলাদেশ!
লজ্জা! ৯-০ গোলের হারকে লজ্জা ছাড়া আর কি বলা যায়? হোক না টুর্নামেন্ট আর প্রতিপক্ষে বিস্তার ফারাক। তাই বলে এতো বড় ব্যবধান। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার মেয়েদের প্রতিপক্ষ গত আসরের রানার্স আপ জাপান। তবে তাদের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন ছোটন। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হার থেকেই শিক্ষা নিয়ে মাঠে নামবেন বলে জানান তিনি, ‘এখন আমাদের সব মেয়েরা ওয়ার্ল্ড লেভেলের ফুটবলটা বুঝতে পারছে। এই টুর্নামেন্ট আমাদের সামনে উন্নতির জন্য সাহায্য করবে।’
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের মূল পর্বের আসরটি এক অর্থে এশিয়ার সেরা আটের লড়াই। এক বছর আগে যেখানে বাংলাদেশ নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করেই জায়গা নেয়। এখন বাংলাদেশের জন্য সফরটি এক রকম শিক্ষা সফর। কৃষ্ণা-সানিজিদাদের প্রেরণা নেওয়ার। কিন্তু ৯ গোলের ব্যবধানে যাচ্ছে-তাই ভাবে হেরে সেখান থেকেই কি-ই বা প্রেরণা নেওয়া যায়?
ফেরা যাক গোলাম রব্বানী ছোটনের কথাতেই। মেয়েদের ফুটবলে বেশ ক’বছর ধরেই কাজ করছেন তিনি। তার অধীনেই একের পর এক সাফল্য পেয়েছে নারী ফুটবল। কিশোরী মেয়েদের এএফসি কাপে তুলেছেন। নারী সাফ ফুটবলে বাংলাদেশকে রানার্সআপ করেছেন। সেই কোচ উত্তর কোরিয়ার কাছে হারের কারণ ব্যাখ্যায় বলছেন, ‘তারা বয়স ভিত্তিক সব পর্যায়েই চ্যাম্পিয়ন দল। গতকাল আমাদের বেশ কিছু খেলোয়াড় নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন নি। এবং আমাদের গোলকিপার বেশ কিছু ভুল করেছে। অন্যথায় ম্যাচের ফলে ৪-৫ গোল কম হতে পারতো।’
৪-৫ গোল কম হওয়া মানে ৪ গোলে হারলেও বাংলাদেশ হয়তো সেটিকেই বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখতো। কিন্তু হাস্যকর সব ভুল করা এক গোলকিপারকেই কি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া যায়? মেয়েদের ফুটবলে গোল কিপিং সমস্যটা নতুন নয়। এর আগেও এই পজিশনের দুর্বলতায় ভুগেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এক বছরের প্রস্তুতিতেও সেই পজিশনে আসেনি উন্নতি। এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বে যেখানে ওই পজিশনেই প্রতিপক্ষকে সামতালে ব্যস্ত থাকতে হবে সব সময়।
ঘরের মাঠে গত বছরের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের গোল কিপিং পজিশন শুধু দাঁড়িয়ে থেকেই সময় পার করেছে। রক্ষন এমন কি বাংলাদেশের অর্ধে বলই এসেছে হাতে গোনা। প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে সারাক্ষণ তাদের অর্ধেই বল নিয়ে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে ২৬ গোল তো তারই প্রমাণ। তবে ওই খেলার গর্বটা যেমন চিরন্তন, তেমননি অপ্রিয় হলেও এটাও সত্য, পরবর্তি এক বছরে বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার কাছে ৯ গোল খাওয়া থেকে বিরত থাকার শক্তিও অর্জন করতে পারেনি। যদিও সংবাদ মাধ্যমে খবর হয়েছে, বছর জুড়ে সাড়ে তিন কোটি টাকা খরচ হয়েছে দলের পেছনে। বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে কোন টুর্নামেন্টের আগে এক বছরের প্রস্তুতি নিতেও দেখা যায়নি কোন দলের। মেয়েরা বিদেশে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে। কিন্তু ফলাফল- ২০১৬ এর সেই শঙ্কাই। তখন মূল পর্বে উত্তির্ণ হওয়ার পর মেয়েরা কেমন করবে বড় দলের সঙ্গে এই আলোচনায় যে ভয় ছিল, এক বছর পর সেটিই ঘোরতর বাস্তব।
উত্তর কোরিয়া টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল। তাদের সঙ্গে ম্যাচ শেষ। তাই বাঁচা গেল এমন ভাব নিয়েও থাকার উপায় নেই। বৃহস্পতিবার প্রতিপক্ষ জাপান, যারা এই টুর্নামেন্টের রানার্সআপই শুধু নয়, নারী বিশ্বকাপ ফুটবলেরও রানার্সআপ। রানার্সআপ তারা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপেরও। তা তিন দিনের ব্যবধানে ৯ গোলে হারের শিক্ষা থেকে জাপানের সঙ্গে কেমন করবে বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ম্যাচের পারফরম্যান্স আশার কিছুই শোনাচ্ছে না।