জামগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ ।। মাটির ভবনে চলছে পাঠদান

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

জামগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- সোনার দেশ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর


নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের ৩৬ নম্বর জামগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ কম। আর এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ মাটির ভবনে চলে পাঠদান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জোড়াতালি দেয়া এ কক্ষেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। বিদ্যুৎ ছাড়াই টিনের ছাউনির নিচে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ করতে হয়।
পাঁকা রাস্তা ও বিদ্যুৎ বিহীন অজোপাড়া ও অবহেলিত এই গ্রামের একমাত্র বিদ্যাপিঠ এই শতবর্ষী স্কুল। ১৯০২ সালে স্থানীয় কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের হাতে বিদ্যালয়টির পথচলা শুরু হলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই লাগে নি। এছাড়া তিন দশক আগে নির্মিত একতলা ভবনগুলোতেও দেখা দিয়েছে ফাটল। বর্তমান ভবন ও পরিত্যক্ত ভবন যে কোন সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবক ও স্থানীয়রা।
এছাড়াও এই বিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত দেয়া হয় নি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার উপকরণ। কিন্তু সরকার বর্তমানে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলনা সামগ্রী রাখা বাধ্যতামূলক করে দিলেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তা থেকে বঞ্চিত। বিদ্যালয়ে নেই কোন নিরাপত্তা প্রাচীর। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বার বার অবগত করেও কোন কাজ হয় নি বলে জানান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে মোট ২৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে যার মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ২শ শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ করছে।
জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে আমাদের এই বিদ্যাপিঠ নানা সমস্যায় জর্জরিত। মাটির দুইটি পরিত্যক্ত কক্ষসহ মোট ৭টি কক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে পুরাতন একতলা ভবনের ৫টি ও মাটির ১টি সহ মোট ৬টি কক্ষে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। কক্ষের সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে পরিত্যাক্ত মাটির ভবনের একটি কক্ষ সংস্কার করে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত কক্ষে পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের কোন ব্যবস্থা না থাকায় গ্রীষ্মের সময় টিনের ছাউনির নিচে প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্য শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে ক্লাস করে। এছাড়াও বিদ্যালয়টিতে আটজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ছয়জন শিক্ষক দিয়েই কোনো রকমে চলছে বিদ্যালয়টি। দীর্ঘদিন ধরে এ দুইজন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যদি এই পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে নতুন করে আধুনিক মানের ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াশরুম, নিরাপত্তা প্রাচীর তৈরি, খেলনা সামগ্রী স্থাপন এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে এই প্রত্যন্ত অবহেলিত গ্রাম এলাকার মানুষের মাঝে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানার প্রতি বাড়বে আগ্রহ।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. সাথিয়া আক্তার অপু জানান, এই বিদ্যালয়ের কাজগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ