জামদানি এখন জিআই পণ্য ।। ঐতিহ্যের সব সম্পদের আইনি সুরক্ষা হোক

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের প্রথম ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে জামদানি। জামদানি শাড়ির প্রধান বিশেষত্ব হলো এই যে, এর নিপুণ কারিগরি প্রস্তুত প্রণালি। এর বুনন, সৌন্দর্য আকর্ষণ ও মিলে একক মর্যাদায় মাহিমান্বিত। নারীদের মধ্যে এর সুখ্যাতি অন্যন্য সাধারণ। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে এর সুখ্যাতি বিদেশেও। জামদানির নির্মাণ শৈলির একক কৃতিত্ব বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের কারিগরদের। বাংলাদেশের একেবারে নিজস্ব আবিষ্কার-উৎপন্ন। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে এর একক ‘নিজস্বী পণ্য’ দাবিদার। বাংলাদেশের এই পণ্য ঐতিহ্যের, গৌরবের। আইন দ্বারা তার নিজস্বীকে সুরক্ষা দিবে এটাই স্বাভাবিক।
মুক্তবাজার এই অর্থনীতির বেপরোয়া প্রতিযোগিতার ক্রান্তিকালে জামদানিকে আইনি নিরাপত্তা (পেটেন্ট) দেয়ার বিষয়টি খুব বিলম্ব হয়েছে যদিও সরকার যে এই মহতী উদ্যোগটা শেষ পর্যন্ত নিতে পেরেছে এ জন্য তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
বিসিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) ১৭ নরভম্বর জামদানিকে এ নিবন্ধন দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পমন্ত্রী বিসিক চেয়ারম্যানের হাতে নিবন্ধন সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের যে কয়টি পণ্য সুপরিচিত, জামদানি এর মধ্যে অন্যতম। এটি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পণ্য মসলিনের পঞ্চম সংস্করণ। একে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশিয় ঐতিহ্যগত সুরক্ষার পথে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে গেল।
জামদানির পর বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ‘ইলিশ’কে ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ডিপিডিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগিরই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইলিশ মাছও জিআই নিবন্ধন লাভ করবে।
সরকারের এই উদ্যোগ খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। বাঙালি জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও  ঐতিহ্য আছে। জাতির সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যগত সম্পদের সুরক্ষায় কাজ করবে এটি জাতীয় আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন। জাতির নিজস্ব আত্মপরিচয় শুধু অনুভবের বিষয় নয়- এটি বিশ্বব্যাপি ব্রান্ডিং করার মধ্য দিয়েই তা বিকশিত হয়। আত্মতৃপ্তি দিয়েই এই বিকাশ সম্ভব নয়Ñ এর গবেষণা, প্রক্রিয়া, কৌশল, আইনি সুরক্ষা ও পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়। এমন তো অসম্ভব নয় যে, আমাদের ঐতিহ্য অন্য দেশ চুরি করে নিয়ে নিজের দাবি করে বসলো। এর জন্য জাতির গৌরব সৃষ্টিকারী সকল পণ্যকেই আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। ইলিশ তো বটেই আমাদের অনেক ভেষজ বৃক্ষ রয়েছে যা এ দেশের মানুষের হাজার হাজার বছর ধরে এদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করেছে- সেগুলোকেও আইনি সুরক্ষায় নিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রেরণা এই যে কাজটি শুরু হয়েছে। কাজের গতি ত্বরান্বিত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ