জামায়াত নেতা আতাউরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীর যৌতুক মামলা

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জামায়াত নেতা আতাউর রহমান-সোনার দেশ

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা দায়ের করলেন গোপনে বিয়ে করা তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির হয়ে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
বাদিপক্ষে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বাবু। পরে মামলা গ্রহণ প্রসঙ্গে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শেষে আদালতের বিচারক মাহবুবুর রহমান আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসামি আতাউর রহমানকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।
আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, মামলায় আসামি আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে। আতাউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল আতাউর রহমানের সঙ্গে দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে তার বিয়ে হয়। এরপর তারা গোপনে এক সঙ্গে বসবাসও করেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তিনি গোপন অবস্থা থেকে প্রকাশ্যে আসেন। এ সময় তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন আতাউর।
পরে কাবিননামা নিয়ে বিভিন্নস্থানে দেন-দরবারও করেন। কিন্তু উল্টো তাকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে ঘর-সংসার করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দিতে হবে বলে দাবি করেন আতাউর রহমান। কিন্তু তা দিতে না পারায় তাকে স্বীকৃতি দেননি। সর্বশেষ গত ২ জুন ভাইদেরকে নিয়ে রাশেদা বেগম তার স্বামীর বাড়িতে যান।
কিন্তু এরপরও জামায়াত নেতা আতাউর রহমান প্রভাব দেখিয়ে তাকে ঘরে তুলে নেননি। উল্টো পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দিয়ে স্ত্রীর অধিকার চাইলে তার ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখান। এর প্রেক্ষিতে তিনি মামলা করেছেন বলেও জানান বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বাবু।
এর আগে ৬৪ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর স্ত্রীকে অস্বীকারের অভিযোগ ওঠে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও দলটির কেন্দ্রের কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে। গত বছরের ১১ এপ্রিল তিনি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লক্ষ্মীপুর শাখায় কর্মরত আয়া রাশেদা বেগমকে গোপনে বিয়ে করেন।
কিন্তু স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেয়ে বিষয়টি ফাঁস করে দেন দ্বিতীয় স্ত্রী। বিষয়টি ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে জানান রাশেদা বেগম। নগরীর রাজপাড়া থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী আবদুর সাত্তারের কাছে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে (কাবিননামা নম্বর ০৬/২০১৬) করেন আতাউর রহমান।

কিন্তু বিয়ের একবছর পার হয়ে গেলেও তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়নি। পরে তিনি বিয়ের প্রমাণপত্রসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জামায়াত নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন। যার কপি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও দেয়া হয়। এরপর আতাউর রহমানকে জামায়াতের সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ