জার্মানিতে ম্যার্কেল জামানার অবসান

আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০২১, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


জার্মানিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসান ঘটলো আঙ্গেলা ম্যার্কেল জামানার। মঙ্গলবার নতুন পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে বিদায়ী সরকারের মেয়াদও শেষ হয়। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত কার্যনির্বাহী চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেল ক্ষমতায় থাকবেন।

জার্মান রাজনীতির জগতে এদিন ছিল ব্যস্ততার দিন। রেকর্ড সংখ্যক সদস্য নিয়ে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগের নতুন যাত্রা শুরু হয়। ৭৩৬ জন এমপি এদিন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ফেডারেল জার্মানির ইতিহাসে তৃতীয় নারী হিসেবে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন এসপিডি দলের বেয়ার্বেল বাস। বিদায়ী ও নতুন স্পিকার সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমপিদের সংখ্যা সীমিত রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, যাতে ২০তম পার্লামেন্টের এমন অস্বাভাবিক রূপের পুনরাবৃত্তি না হয়। গতবারের তুলনায় এবার ১৪০ জন বাড়তি সংসদ সদস্যের কারণে জার্মান করদাতাদের ওপর বছর ১০ কোটি ইউরোর বোঝা চাপবে বলে জানিয়েছে দেশটির করতাদাদের একটি সংগঠন।

এসব ব্যস্ততার মাঝে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের উপস্থিতি সহজে চোখে পড়ার মতো ছিল না। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চ্যান্সেলর এবং তিন দশকেরও বেশি সময়জুড়ে সংসদ সদস্য থাকার পর তিনি এবার নির্বাচনে দাঁড়াননি। তাই বুন্ডেসটাগে ভিআইপি দর্শকের আসনে বসেই তিনি সব আনুষ্ঠানিকতা পর্যবেক্ষণ করেন।

জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক ভাল্টার স্টাইনমায়ার মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী সরকারকে বিদায় জানান। ম্যার্কেলসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের অব্যাহতি দেন তিনি। দেশের কঠিন সময়ে চালকের আসনে ম্যার্কেলের ভূমিকার প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্টাইনমায়ার। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় বিদায়ী সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন জার্মান প্রেসিডেন্ট।

ম্যার্কেলের চতুর্থ এবং শেষ কার্যকালে ব্রেক্সিটের মতো ধাক্কা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামলানোর জন্যও স্টাইনমায়ার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তার ভাষণে আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উষ্ণতার ছোঁয়াও দেখা গেছে।
এদিকে কার্যনির্বাহী সরকারের প্রধান হিসেবে ম্যার্কেলেরও এখনই ব্যস্ততা শেষ হচ্ছে না। বুধবারই তিনি বার্লিনে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহকে স্বাগত জানাবেন। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা উষ্ণতার সঙ্গে তাকে বিদায় জানিয়েছেন। ইতালিতে জি-২০ জোটের শীর্ষ সম্মেলন এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ সম্মেলনেও তিনি জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, উদারপন্থী এফডিপি ও পরিবেশবাদী সবুজ দল জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে বুধবার থেকে বড় আকারে আলোচনা শুরু করছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই সরকার গঠনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন দলগুলোর নেতারা। সেক্ষেত্রে ৬ ডিসেম্বর নতুন চ্যান্সেলর হিসেবে ওলাফ শলৎস শপথ নেবেন। বাস্তবে সেই পরিকল্পনা সত্যি কার্যকর হলে ম্যার্কেল সামান্য কয়েক দিনের জন্য ফেডারেল জার্মানির ইতিহাসে চ্যান্সেলর হিসেবে দীর্ঘতম কার্যকালের রেকর্ড ভাঙতে পারবেন না।

১৯৮২ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত হেলমুট কোল পাঁচ হাজার ৮৭০ দিন জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কমপক্ষে ১৯শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারলে তবেই ম্যার্কেল সেই রেকর্ড ভাঙতে পারবেন। তাকে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে বিচলিত হতে দেখা যায়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি ‘নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন’ বলে আশা করছেন।
তথ্যসূত্র: ডিডাব্লিউ, বাংলাট্রিবিউন