জালিয়াত পিকে হালদার কোলেকাতায় গ্রেফতার দেশে ফিরিয়ে আনার দ্রুত পদক্ষেপ চাই

আপডেট: মে ১৬, ২০২২, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদার। তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। পিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তিনি শিবশংকর হালদার নামে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। বানিয়ে ফেলেছিলেন ভারতীয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড সহ বিভিন্ন ভারতীয় নথি। এমনকি নিয়মিত ভোট দিতেন পশ্চিমবঙ্গে। শনিবার (১৪ মে) দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে পি কে হালদার এবং তার পরিবারের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ভারতের আর্থিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর, এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টর অর্থাৎ ইডি। পিকে হালদারকে গ্রেফতার করতে ইডি ১৩ মে সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নয়টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করে। পিকে গ্রেফতারের খবর ভারত ও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো গুরুত্ব দিয়ে প্রচার ও প্রকাশ করে। এখন বাংলাদেশের মানুষ সরকারের পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে। পিকে কে ভারত থেকে কোন উপায়ে বাংলাদেশে ফেরৎ এনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শুরু করবে। সরকারের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পিকে হালদারকে গ্রেফতারের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায় নি।
ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যাবর্তনে কিছু সমস্যা আছে। এর আগেও বাংলাদেশি আসামি ভারত থেকে পাঠাতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার যখন পি কে হালদারকে ফেরত চাইবে তখন সহজ কোনো উপায় খোঁজা হবে। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মাধ্যমে কোর্টে চালান করা হবে। এরপর বাংলাদেশ মিশনের সহযোগিতায় সম্ভবত বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে হালদারকে।
তবে ভারতীয় নাগরিকত্ব জালিয়াতির কারণে এই মামলায় ভারত থেকে সহজে ছাড়া পাবে না পি কে।
পিকে হালদার বাংলাদেশের ব্যাংক পাড়ায় একটি পরিচিত নাম। বাংলাদেশের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার নামে। বর্তমানে পলাতক পিকে।
ইডি কলকাতায় তার বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৯টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের হদিস পেয়েছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ে আরও সম্পদ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশে ৩৪টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে ১২ জন। এদের মধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পিকে ইস্যুতে ৬৪ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
বাংলাদেশে পিকের এক হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতবর্ষের কলকাতায় মিলল তার অবৈধ সম্পদের সন্ধান। শুক্রবারের অভিযানে পিকের সহযোগী সুকুমার মৃধার বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে দিল্লি ও মুম্বইয়েও রয়েছে তার অঢেল সম্পদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। জানালে নিয়ম অনুযায়ী পিকে হালদারকে বাংলাদেশে ফেরৎ আনার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তবে অপেক্ষায় বসে না থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে পিকি হালদারকে ফেরৎ আনার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। পিকি হালদারকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরৎ এনে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং তা কাল বিলম্ব না করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ