জিম্মি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ ও নাবিকরা মুক্ত

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৪, ২:২৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি-আব্দুল্লাহ ও এর নাবিকরা মুক্ত হয়েছেন।
রোববার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোর রাত ৩টার দিকে জাহাজটি সোমালিয়া থেকে দুবাই রওনা হয়েছে বলে জাহাজটির মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া ফোকাল পার্সন মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জাহাজটি দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ভোর রাত তিনটার দিকে রওনা করেছে। নাবিকরা সবাই সুস্থ আছেন।” প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, জাহাজটির ২৩ জন নাবিকের মধ্যে ১৮ জন দুবাইয়ে নেমে যাবেন, আর তাদের জায়গার যুক্ত হবেন নতুন ১৮ জন। এই নতুনদের সঙ্গে বাকি নাবিকরা পরে দেশে ফিরবেন।

জিম্মি িমুক্তিপণের অর্থ যেভাবে পেল সোমালিয়ার জলদস্যুরা : ৩২ দিন পর সোমালিয়ার সময় শনিবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৮ মিনিট) জাহাজটি থেকে দস্যুরা নেমে যায়। জাহাজটিতে থাকা ২৩ নাবিকই সুস্থ রয়েছেন। এরপরই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারমিয়া বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এ সময় এমভি আবদুল্লাহর দুই পাশে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাহারা দিয়ে সোমালিয়া উপকূল ত্যাগ করতে থাকে। জাহাজের মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম জানান, আমাদের জাহাজটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩ নাবিকই অক্ষত অবস্থায় আমরা ফেরত পেয়েছি।

মুক্ত নাবিকের ঘরে আনন্দের কান্না : জানা গেছে, জলদস্যুদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ নিয়ে একটি উড়োজাহাজ বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেলে জিম্মি জাহাজের ওপর চক্কর দেয়। এসময় জাহাজের ওপরে ২৩ নাবিক অক্ষত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর বিমান থেকে ডলারভর্তি তিনটি ব্যাগ সাগরে ফেলা হয়। স্পিডবোট দিয়ে এসব ব্যাগ জলদস্যুরা কুড়িয়ে নেয়। জাহাজে উঠে দাবি অনুয়ায়ী মুক্তিপণ গুনে নেয় জলদস্যুরা। যদিও মুক্তিপণ কত এবং কীভাবে দেওয়া হয়েছে সেটি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি জাহাজের মালিকপক্ষের কোনো কর্মকর্তা।

গত ১২ মার্চ দুপুরে কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি জিম্মি করে সোমালিয়ান দস্যুরা। সেখানে থাকা ২৩ নাবিককে একটি কেবিনে আটকে রাখা হয়। আটকের পর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। ৫৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে গত ৪ মার্চ আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুটো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এমভি-আবদুল্লাহ। ১৯ মার্চ সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাত’র হামরিয়াহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিলো।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সোমালিয়ার উপকূলে নোঙর করা জাহাজটির ডেকে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়েন জিম্মি নাবিকরাবুধবার দুপুর ১২টার দিকে সোমালিয়ার উপকূলে নোঙর করা জাহাজটির ডেকে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়েন জিম্মি নাবিকরা দীর্ঘ একমাস পর ভারত মহাসাগরে সোমালিয়া জলদস্যুদের কবলে পড়া জাহাজ এমভি আবদুল্লাহসহ ২৩ নাবিক মুক্ত হয়েছেন। শনিবার মধ্যরাতের পর নাবিকরা মুক্তি পেয়ে জাহাজটি নিয়ে দুবাইয়ের দিকে রওনা দিয়েছেন।

রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল হওয়ার আগেই এ খবর একে একে জেনে গেলো সব নাবিকের পরিবার। দস্যুদের কবল থেকে মুক্তির খবরে দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান হলো। স্বস্তি ফিরেছে স্বজনদের মাঝে। এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে ওয়েলার পদে কর্মরত মো. শামসুদ্দিনের স্ত্রী রিমা আক্তার বলেন, ‘আজ ( রোববার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শামসুদ্দিন ফোন করেছে। জানিয়েছে, তারা দস্যুদের কবল মুক্তি পেয়েছে। এ খবর পেয়ে আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

মুক্তি পাওয়ার এ খবর শোনার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহর দরবারে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। জাহাজের মালিককেও ধন্যবাদ জানাই নাবিকদের মুক্ত করার জন্য।’ এ প্রসঙ্গে সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক আতিক ইউএ খান বলেন, ‘মুক্তি পাওয়ার পর এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ইতোমধ্যে রওয়ানা হয়েছে দুবাইয়ের দিকে। এক সপ্তাহ পর দুবাই পৌঁছালে সব নাবিককে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। দুবাইতেই নতুন নাবিকরা জাহাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।’