‘জিয়ার শিষ্য’ জঙ্গি আশফাক সংগ্রহ করতেন ব্লগারদের তথ্য

আপডেট: মে ৩, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের ‘তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান’ আশফাক উর রহমান অয়ন -সংগৃহিত

আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের ‘সামরিক শাখার প্রধান’ সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সরাসরি সংস্পর্শে থেকে সংগঠনের ‘তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান’ আশফাক উর রহমান অয়ন হামলার লক্ষ্য করা ব্লগার-লেখকদের ‘ফেইসবুক আইডি হ্যাক করে তথ্য সংগ্রহ করতেন’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আশফাকের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন পুরিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
সোমবার রাতে রাজধানীর ভাটারা থেকে আশফাককে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে আসেন মনিরুল।
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার আশফাক আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের সামরিক শাখার প্রধান সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর জিয়ার সরাসরি সংস্পর্শে থেকে কাজ করতেন। সংগঠনের আরেকজনের সঙ্গে দেখা করতে তিনি সিলেট থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের তৎপরতার খবর আসে। সংগঠনটির আমির মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী ওই মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করছেন। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের মে মাসে নিষিদ্ধ হওয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিম লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা ও হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।
আর ২০১২ সালে সরকার উৎখাতে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে প্রবাসী ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ ও মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকের নাম প্রকাশ পায়।
গত দুই বছরে বাংলাদেশে ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক-প্রকাশক, বিদেশি নাগরিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আবারও জিয়ার নাম আলোচনায় আসে।
পুলিশের ভাষ্য- আনসারুল্লাহ বাংলাটিম নাম বদলে আনসার আল-ইসলাম বাংলাদেশ হিসেবে এবং আরেক নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। আর মেজর জিয়া আনসার আল ইসলামের সঙ্গে আছেন বলে ধারণা পুলিশের।
গতবছর মেজর জিয়ার সঙ্গে ‘নব্য জেএমবির’ নেতা কানাডীয় পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিক তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। তামিম পরে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত হলেও জিয়া এখনও লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আশফাক তার সঙ্গে জিয়ার কয়েকমাস আগে ঢাকার বাইরে দেখা হওয়ার তথ্য দিয়েছেন বলে জানান মনিরুল।
তিনি বলেন, “মাঝখানে দুইমাস আগে যোগাযোগ হয়েছে। এরপর থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।”
তাদের সাম্প্রতিক কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কিনা তা আশফাককে রিমান্ডে পেলে জানার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মনিরুল ইসলাম জানান, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী আশফাক আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের সক্রিয় সদস্য ও আইটি বিশেষজ্ঞ। বছর দেড়েক আগে এ সংগঠনে যুক্ত হয়ে সামরিক প্রশিক্ষণও নেন তিনি।
“আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের তিনটি বিভাগ হলো দাওয়া বিভাগ, আশকারী বিভাগ ও মিডিয়া শাখা। গ্রেপ্তার আশফাক সামরিক শাখা পরিচালিত আইটি বিভাগের বিশেষজ্ঞের দায়িত্বে ছিলেন। তার সামরিক প্রশিক্ষণ থাকলেও টেকনোলজি নিয়েই সেখানে কাজ করতেন।”
বিভিন্ন ব্লগার হত্যায় কারও ফেইসবুক আইডি হ্যাক করায় আশফাকের কতটুকু ভূমিকা ছিল তা জানার পর কোনো হত্যায় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেই মামলাগুলোতে তাকে যুক্ত করা হবে বলে জানান মনিরুল।
মনিরুল ইসলাম বলেন, “আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যদের অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এসেছে, অনেকের ছবি নাম ও ঠিকানা প্রকাশ হয়েছে। যে কারণে তারা এখন ব্যাকফুটে রয়েছে। আত্মগোপনে থেকেই এখন সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের প্রশিক্ষণ, সংগঠন গোছানোর কাছে ব্যস্ত। সুযোগ পেলে আগামীতে হয়ত তারা কোনো টার্গেট করতে পারে।”
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আশফাকের কাছ থেকে ল্যাপটপ, বিভিন্ন উগ্রবাদী বই পাওয়া গেছে।
তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলার পর তাকে আদালতে পাঠিয়ে দশদিনের রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম, প্রলয় জোয়ার্দার, রাকিবুল ইসলাম, মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মো.মাসুদুর রহমান প্রমুখ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।- বিডিনিউজ